ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ১৮তম দিনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন পারমাণবিক যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা এই রণতরিটিতে আগুনের ঘটনার পর সেটিকে সাময়িকভাবে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে বন্দরে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
মূলত জাহাজের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এবং নাবিকদের আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে মেরামতের উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রণতরিটির মূল লন্ড্রি এলাকায় এই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় ২০০ জন নাবিক ধোঁয়াজনিত অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আকাশপথে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগুনের প্রভাবে জাহাজের ভেতরে থাকা প্রায় ১০০টি শোয়ার কক্ষ বা বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও পেন্টাগন প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল যে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট বা ইঞ্জিন অক্ষত রয়েছে এবং এটি পূর্ণ সচল আছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেটিকে বন্দরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাধুনিক রণতরিটি গত নয় মাস ধরে মোতায়েন রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আসার আগে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযানেও অংশ নিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে অবস্থান করার ফলে জাহাজের নাবিকদের মনোবল এবং রণতরিটির সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সামরিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ক্ষমা চেয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক পোস্ট, মুহূর্তেই ভাইরাল
বর্তমানে এই জাহাজে ৫ হাজারেরও বেশি নাবিক এবং এফ-১৮ সুপার হর্নেটসহ ৭৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান রয়েছে। বন্দরে পাঠানোর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এই বিশাল আকাশসীমা সুরক্ষা ও হামলা পরিচালনাকারী ইউনিটটির অনুপস্থিতি ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ এই অভিযানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ছিল, যার সঙ্গে ছিল গাইডেড মিসাইল ক্রুজার নরম্যান্ডি এবং বেশ কয়েকটি বিধ্বংসী ডেস্ট্রয়ার জাহাজ।
বর্তমানে এই রণতরিটি কত দিন গ্রিসের বন্দরে অবস্থান করবে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে যে এটি পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


