২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শুরুটা সমালোচনার মধ্যেই হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর প্রশ্ন উঠেছিল দলটির আক্রমণভাগ নিয়ে। তবে সেই সমালোচনাকে পেছনে ফেলে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শুধু তাই নয়, চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একমাত্র দল হিসেবে কোনো গোলই হজম করেনি স্পেন।

আজ বাংলাদেশ সময় রাতে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্পেন। ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রুডি গার্সিয়ার দল কি শেষ পর্যন্ত স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে পারবে?
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে শেষবার গোল হজম করার পর থেকে টানা ৬০৯ মিনিট ধরে স্পেনের জালে বল জড়াতে পারেনি কোনো প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গোল না খাওয়ার রেকর্ড।
স্পেনের এই সাফল্যের পেছনে শুধু গোলরক্ষক বা ডিফেন্ডারদের অবদান নয়, বরং পুরো দলের সমন্বিত রক্ষণাত্মক কৌশল কাজ করছে বলে মনে করছেন ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সদস্য এবং আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার পাবলো জাবালেতা।
জাবালেতা বলেন, ‘বল দখলে এগিয়ে থাকার অর্থই হলো ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া। স্প্যানিশ ফুটবলাররা বল পায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে অসাধারণ দক্ষ। এটি যেন তাদের ফুটবল ডিএনএরই অংশ।’
তার মতে, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খেলোয়াড়দের পারস্পরিক দূরত্ব কম রাখা। এতে বল হারালেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একাধিক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে ঘিরে ফেলে এবং দ্রুত বলের দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
জাবালেতা বলেন, ‘স্পেনে ছোটবেলা থেকেই খেলোয়াড়দের শেখানো হয়, বল হারানোর পরের দুই-তিন সেকেন্ডই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা তারা খুব ভালোভাবেই জানে।’
চলতি বিশ্বকাপে সৌদি আরব ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এই কৌশলের সফল প্রয়োগ দেখা গেছে। সৌদি আরবের বিপক্ষে পেদ্রি, আলেক্স বায়েনা ও মার্ক কুকুরেয়া বাম প্রান্তে ত্রিভুজ গড়ে আক্রমণ তৈরি করেন। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত প্রেসিং করে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে স্পেন।
অন্যদিকে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে লামিন ইয়ামালের আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিপক্ষ পাল্টা আক্রমণে উঠলেও রদ্রি মুহূর্তের মধ্যেই বল কেড়ে নিয়ে স্পেনকে আবার আক্রমণে ফেরান। এ সময়ও তার আশপাশে একাধিক সতীর্থ সঠিক অবস্থানে ছিলেন।
ফিফা ফুটবল পারফরম্যান্স ইনসাইটসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের রক্ষণসীমায় সবচেয়ে বেশি বল পুনরুদ্ধার করেছে স্পেন। তাদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ দলগুলো গড়ে মাত্র ১৯ দশমিক ৩ সেকেন্ড বলের দখল ধরে রাখতে পেরেছে, যা টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন।
এছাড়া মাঝমাঠে কুবারসি ও আইমেরিক লাপোর্তে নিজেদের ৩১টি ডুয়েলের মধ্যে ২৪টিতে জয় পেয়েছেন, যার সাফল্যের হার ৭৭.৪ শতাংশ। রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা ফাঁকা থাকার ঝুঁকি নিয়েও সামনে উঠে এসে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা দারুণ কার্যকর।
স্পেনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিপক্ষকে মাঠের নির্দিষ্ট একটি অংশে খেলতে বাধ্য করা। এরপর পাসের সব পথ বন্ধ করে ‘হাই ব্লক’ কৌশলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা। বল হারানোর পর নিজেদের সময়ের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এই কৌশল প্রয়োগ করেছে স্পেন, যা চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ।
অবশ্য এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। দ্রুতগতির ফরোয়ার্ডরা রক্ষণভাগের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে পারেন। তবু এখন পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল সেই ঝুঁকি সফলভাবেই সামলে নিয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
স্পেনের বল দখলের ফুটবল চোখে পড়লেও, বিশেষজ্ঞদের মতে তাদের প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে বল ছাড়া খেলোয়াড়দের চলাফেরা, দ্রুত প্রেসিং এবং সমন্বিত রক্ষণে। আর সেই কৌশলই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে একটিও গোল হজম না করার অন্যতম বড় কারণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



