ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে প্রতিবছর ব্যাপক আলোচনা হয়। কিন্তু পশুর হাড়, শিং, খুর, মাথার চামড়া, চর্বি, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি কিংবা লেজের মতো উচ্ছিষ্ট অংশগুলো নিয়ে সচেতনতা খুবই কম দেখা যায়।

এসবের বড় অংশই বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ এসব উপজাত সঠিকভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে প্রতিবছর শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, কোরবানির পশুর প্রায় প্রতিটি অংশেরই শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রয়েছে। হাড় থেকে তৈরি হয় জেলাটিন, পশুখাদ্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল।
শিং ও খুর ব্যবহৃত হয় বোতাম, অলংকার এবং হস্তশিল্পে। পশুর চর্বি থেকে তৈরি হয় সাবান, প্রসাধনী ও বিভিন্ন শিল্পপণ্য।
রক্ত ও নাড়িভুঁড়ি প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার ও পশুখাদ্য উৎপাদনও সম্ভব। কিন্তু দেশের অধিকাংশ এলাকায় কোরবানির পর এসব উপকরণ সংগ্রহের কোনো সংগঠিত ব্যবস্থা নেই। ফলে এগুলো খোলা জায়গায় ফেলে দেওয়া হয় বা মাটিচাপা দেওয়া হয়। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ে, তেমনি নষ্ট হয় সম্ভাবনাময় একটি অর্থনৈতিক সম্পদ।
কালাম ব্রাদার্স ট্যানারির মালিক হাজী মো. কামাল বলেন, ‘গরুর মাথার চামড়া দিয়ে একজোড়া ভালোমানের বুটজুতা তৈরি করা যায়। সেনাবাহিনী, পুলিশেরা সেসব জুতা ব্যবহার করে। তখন আমাদের দেশেই এইসব কারখানা ছিলো এখন আর নেই। এজন্য চাহিদাও কমে গেছে। আগে মাথার চামড়া বিক্রি হতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এখন সেটা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছি। আর গোটা চামড়া বিক্রি হয় ৩৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। কি আর বলব ভাই। এ খাত ধ্বংস হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, একসময় গুরু কোনো কিছুই ফেলে দেয়া হতো না। এখন দেখন এই যে শিং, মাথার চামড়া, লেজ ফেলে দেয়া হচ্ছে। যদি দাম থাকতো তাহলে কেউ ফেলে দিতো না। আপনি কষ্ট করে সংগ্রহ করবেন তারপর যদি আপনার কষ্টের টাকা না পান তাহলে কেন এ কাজ করবেন। কেন বাজার নষ্ট হলো সেটা সরকারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। আমরা যেটা জানি সেটা বলেছি। যখন ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি ছিলো তখন এসব জিসিনেরও চাহিদা ছিলো। আগে বিদেশি ক্রেতারা সরাসরি কিনতেন। এখন সেই সুযোগ নেই।
পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী হাজী মো. শামসুল হক বলেন, কোরবানি হওয়া পশুর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। পশুর বর্জ্য কি শিং, মাথা, চামড়া, দাঁত, লেজ, নাড়িভুঁড়ি, হাড়, অন্ডকোষ ও রক্ত – এসব সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ সরকারের নেই। সরকারতো শুধু এক চামড়া নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ এই বর্জ্য রপ্তানি করে একসময় অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। এখনও কিছু রপ্তানি হয়। তবে সেটা সীমিত। অথচ সরকার যদি একটু উদ্যোগি হতো তাহলে এখাত থেকে হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব বলে জানান তিনি।
পোস্তায় রাস্তার পাশে বসে ফেলে দেওয়া গরুর লেজের পশম বাছাই করছিলো মো. শামছু মিয়া। তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে আমি এসব কাজ করি। আগে যখন শক্তি ছিলো চামড়ার আড়তে কাজ করতাম। সেখানে ফেলে দেওয়া পশুর শিং, মাথার চামড়া ও লেজ আলাদা করে নিয়ে আসতাম। তারপর সেগুলো বাছাই করে বিক্রি করতাম। একটা গুরু মাথার চামড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন কেউ নেয় না। তারপর শিং এর কেজি বিক্রি করেছি ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা। এখন বয়সের ভারে কাজ করতে পারি না। তাই রাস্তায় ফেলে দেওয়া লেজ থেকে চুল সংগ্রহ করছি। সেটা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি করবো। এক সময় সেটা ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি।
তিনি বলেন, এক সময় এই চুল, শিং, দাঁত, খুর ও মাথা চামড়া ও হড়ের অনেক কদর ছিলো। এখন কেউ জিজ্ঞেস করে না। রাস্তায় ফেলে রেখেছে, কাল সকালে সিটি কর্রপোরেশনের লোক এসে নিয়ে যাবে। চাহিদা থাকলে তো আর কেউ ফেলে দিতো না।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান বলেন, সচেতনতার অভাবে গবাদিপশুর হাড়, শিং, খুর, লেজ, রক্ত ও অন্যান্য উপজাত শতকোটি টাকার সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও আবর্জনার ভাগাড়ে চলে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সংরক্ষণের আধুনিক সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা পেলে এই খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা গেলে বাংলাদেশ অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে যেতে পারে।
শুধু ঢাকাতেই ৩৫ হাজার টন বর্জ্য
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির গবেষণা অনুযায়ী, কোরবানির ঈদে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৩৫ হাজার টন পশুবর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে রয়েছে হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, রক্ত, চর্বি, মূত্রথলি ও চামড়ার বিভিন্ন অংশ।
খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব উপাদানের প্রায় সবই প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানিযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব। সংগঠিতভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে শুধু ঈদকেন্দ্রিক এই খাত থেকেই শতকোটি টাকার আয় হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, পশুবর্জ্য থেকে উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
পশুখাদ্যে আমদানি নির্ভরতা কমানোর সুযোগ
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য বলছে, দেশে পশু ও মৎস্য খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত প্রোটিনের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি প্রোটিন আমদানিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ব্যয় হয়। অথচ পশুর উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য ব্যবহার করে প্রোটিন উৎপাদন করলে প্রতি কেজিতে খরচ হতে পারে মাত্র ৩ থেকে ৪ টাকা। এতে একদিকে আমদানি নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
নতুন রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে রপ্তানিযোগ্য নতুন খাতের বিকাশ জরুরি। কোরবানির পশুর উপজাতভিত্তিক শিল্প হতে পারে তেমনই একটি সম্ভাবনাময় খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে জেলাটিন, পশুখাদ্য উপকরণ, বোন চার ও অন্যান্য প্রাণিজ উপজাতের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশও এই বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার মতো হাড় ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট সংগ্রহেও জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, মসজিদভিত্তিক প্রচারণা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।
ড. মাহফুজ কবির খান বলেন, কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টকে বর্জ্য নয়, অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন এবং সংগঠিত সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে প্রতিবছর নষ্ট হওয়া বিপুল সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত হবে।
সাভারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বলেন, ঢাকার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে ধীরে ধীরে অগ্রগতি হচ্ছে। বিশেষ করে ট্যানারি শিল্প থেকে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্য (সলিড ওয়েস্ট) ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ায় শিল্প খাতে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ট্যানারি শিল্পে উৎপন্ন কঠিন বর্জ্য মূলত তিন ধরনের র-ট্রিমিংস, ক্রোম শেভিং ডাস্ট এবং ফ্লেশিং। এসব বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, র-ট্রিমিংস বলতে পশুর মাথা, শিংসহ বিভিন্ন অবশিষ্টাংশকে বোঝায়। আগে এসব বর্জ্য নিষ্পত্তি করা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের বর্জ্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা এসব উপকরণ দিয়ে চাবির রিং, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করছে। ফলে এ খাতে একটি বাজার তৈরি হয়েছে এবং বর্জ্য নিষ্পত্তির কার্যকর পথও উন্মুক্ত হয়েছে।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ট্যানারি বর্জ্যের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ক্রোম শেভিং ডাস্ট নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়েট ব্লু পর্যায়ের পর উৎপন্ন এই বর্জ্যে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম থাকায় তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একটি চীনা প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে এই বর্জ্য সংগ্রহ করছে। তারা বিশেষ প্রক্রিয়ায় এটি ব্যবহার করছে এবং নিশ্চিত করছে যাতে কোনোভাবেই তা খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত করার পর বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ফ্লেশিং বা চর্বিযুক্ত তরল ও আঠালো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এসব বর্জ্য থেকে জেলাটিন উৎপাদন সম্ভব, যা ওষুধের ক্যাপসুলের আবরণসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এ বিষয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একটি চীনা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি দেশের কয়েকজন ট্যানারি মালিকও এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ফ্লেশিং বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও কার্যকর সমাধান পাওয়া যাবে। এতে ট্যানারি শিল্পের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ অনেকাংশে কমে আসবে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে। শতভাগ সফলতা অর্জন না হলেও শিল্পনগরীর পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে বড় ধরনের উন্নতি হবে। এর ফলে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে তিনি প্রত্যাশা করেন।
বাংলাদেশ বোন এক্সপোর্টার অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, পশুর হাড়, শিং, দাঁত, খুর, চর্বি, রক্ত, নাড়িভুঁড়ি ও অন্যান্য উপজাত ব্যবহার করে ওষুধ, ক্যাপসুলের কভার, সিরামিক পণ্য, খেলনা, শোপিস, সাবান, পশুখাদ্য এবং বিভিন্ন শিল্পপণ্য তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারেও এসব পণ্যের উল্লেখযোগ্য চাহিদা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টকে আর বর্জ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপন এবং সংগঠিত সংগ্রহব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে প্রতিবছর নষ্ট হওয়া বিপুল সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তখন কোরবানির পশুর হাড়, শিং কিংবা রক্ত শুধু বর্জ্য থাকবে না; সেগুলো হয়ে উঠবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
সূত্র : বাংলানিউজ২৪
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



