স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতের গোয়ার পানাজিতে ফুটবলা বিশ্বের জীবন্ত কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ফুটবলকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে এবং রাজ্য ও দেশের যুবকদের অনুপ্রাণিত করতে এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে। গোয়ার মন্ত্রী মাইকেল লোবো বলেন, ‘আমরা যুবকদের অনুপ্রাণিত করতে এবং রাজ্যে, দেশে ফুটবলকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই মূর্তিটি তৈরি করেছি। আমরা চাই আমাদের বাচ্চারা এই মহান ফুটবলারের মতো হোক। যিনি একজন বিশ্ব কিংবদন্তি।’

কিন্তু একসময় পর্তুগালের উপনিবেশ গোয়ায় এই ভাস্কর্য স্থাপনকে অপমান হিসেবে দেখছেন অনেকেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, স্থানীয় ফুটবলারদের সম্মান জানানো উচিত ছিল। কারণ অতীত ও বর্তমানে ভারতের জাতীয় দলে গোয়ার অনেকেই ছিলেন।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রোনালদো ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে জানতে পেরে খুব হতাশ। সামির নায়েক ও ব্রুনো কৌতিনহোর মতো নিজেদের কারও হলে গর্বিত হতাম।
ভাস্কর্যটি উন্মোচনের সময় কিছু মানুষ কালো পতাকা নাড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
গোয়াতে পর্তুগাল ফুটবল টিম অনেক জনপ্রিয়। ঔপনিবেশিক অতীত, স্থানীয়দের অনেকের পর্তুগালে বসবাস বা আত্মীয়রা সেখানে থাকার কারণে এমনটি হতে পারে।
কিন্তু ভারতীয় রাজ্যটির কিছু মানুষ পর্তুগালের কাছ থেকে গোয়ার স্বাধীনতা লাভের ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের সময় এই ভাস্কর্য উন্মোচন করায় অপমানবোধ করছেন। ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জনের ১৪ বছর পর গোয়া স্বাধীন হয়।
ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট গুরু শিরোদকার বলেন, এই বছর পর্তুগালের একজন ফুটবলারের ভাস্কর্য উন্মোচন করা কলুষতা। আমরা এর নিন্দা জানাই। গোয়াতে অনেক স্বাধীনতা যোদ্ধা রয়েছেন তাদের অপমান করা হলো।
রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর স্থানীয় আইনপ্রণেতা মাইকেল লোবো ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়ানো নিজের একটি ছবি টুইটারে প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, তরুণদের অনুরোধে ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিতে আমাদের তরুণদের উৎসাহিত করতে এই ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।
রোনালদো এখন যুক্তরাজ্যে ম্যানচেস্টা ইউনাইটেডে খেলছেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা একজন খেলোয়াড় হিসেবে তাকে মনে করা হয়।
৩৬ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার ভাস্কর্যটি নিয়ে প্রকাশ্যে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


