Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক: ঘুর্ণিঝড় ফণী প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক কম গতিতে বাংলাদেশে আঘাত হানায় প্রাণহানি অনেক কম হয়েছে৷ তবে, কৃষকরা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সে সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে৷ খবর ডয়চে ভেলের।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাধ ভেঙে গেছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বেসরকারি উন্নয়নসংস্থা ব্র্যাক সূত্রে জানা গেছে৷ আর আড়াই হাজারের মত বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়৷

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহ কামাল এই বিষয়ে বলেন, ‘‘এবার সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল খুলনা অঞ্চলের ১১ হাজার হেক্টর জমির ধান৷ এখানকার ধানে মাত্র থোরে ফুল এসেছে৷ আশঙ্কা ছিল বাতাসের গতি বেশি হলে ধান হেলে পড়ে মাটির সাথে মিশে নষ্ট হবে৷ আর পানি বেশি হলে তা ডুবে পচে যাবে৷ তবে আমরা খবরই পেয়েছি এর কোনোটিই ঘটেনি৷ ফসল রক্ষা পেয়েছে৷”

ফণীতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান হিসেব করতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ২টি করে কমিটি কাজ করছে৷ জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে, যারা ৩ দিনের মধ্যে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির হিসেব দেবে৷ আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে যে কমিটিগুলো কাজ করছে তারা ক্ষয়ক্ষতির সাথে কি সহায়তা প্রয়োজন তারও হিসেব দেবে৷

প্রসঙ্গত, এই ঘূর্ণিঝড়ে ১৯টি জেলা ঝুঁকির মুখে ছিল৷ এগুলো হলো: ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর৷

তবে কোথাও আশঙ্কা অনুযায়ী ক্ষতি হয়নি বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে৷ তারপরও ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা এবং সাতক্ষীরা এলাকা৷

ব্র্যাকের মানবিক কর্মসূচির পরিচালক সাজেদুল ইসলাম এই বিষয়ে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির যে খবর পেয়েছি তাতে ১৪জন নিহত হয়েছেন। ৫০-৬০ জন আহত হয়েছেন৷ আর ঘূর্ণিঝড়ে পানি বেড়ে গেলে যে সমস্যা হয় তা হল বেড়িবাঁধ ভেঙে যায় বা পানি উপচে পড়ে৷ আমরা জানতে পেরেছি উপকূলীয় এলাকার ৩৩ কিলোমিটার এলাকার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷”

তিনি বলেন, ‘‘আমরা যে খবর পেয়েছি তাতে পটুয়াখালী ভোলা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট এলাকায় বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে৷ ফসল নষ্ট হয়েছে৷ গবাদী পশুর ক্ষতি হয়েছে৷ যেসব এলাকায় সাইক্লোনের মাত্রা বেশি ছিল, সেসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির কথা জানতে কাজ করছি৷ প্রকৃত চিত্র জানতে আরো সময় লাগবে৷”

তবে, এর বাইরে সুনামগঞ্জ এলাকায়ও বাঁধ ভেঙে হাওড়ে পানি ঢোকার খবর পাওয়া গেছে৷ এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে৷ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন) ড. মোহাম্মদ আব্দুল মুঈদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি এবং ঝড়েরর তীব্রতা কম হওয়ায় ফসলের ক্ষতি তেমন হয়নি। যেসব ধান ৮০ ভাগ পেকেছিল তা আমরা কৃষকদের বলে আগেই কাটিয়ে ফেলেছি৷ আর পাকা ধানসহ কিছু ধান ঝড়ে মাটিতে পড়ে গেলেও ক্ষতি নেই৷ কারণ পানি না হওয়ায় ওই ধানের ক্ষতি হবে না৷ আমাদের হিসাব আসতে আরো দু’একদিন সময় লাগবে৷ তবে কোনোভাবেই শতকরা ১০ ভাগের বেশি ফসলের ক্ষতি হয়নি৷”

অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের বরাতে ডেইলি স্টার পত্রিকায় রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীতে দেড় লাখ একরের বেশি আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ আর ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা একুশ হাজারের মতো৷ এরমধ্যে ১,৮৩০ একর আবাদী জমি এবং ২,৩৬৩টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কোর্ডিনেশন সেন্টার’-এর বরাতে জানিয়েছে পত্রিকাটি৷

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.