রাশিয়া মনে করে যে কিউবার জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা সচল রাখতে দেশটিকে জরুরি জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করা মস্কোর নৈতিক দায়িত্ব, কারণ চরম সংকটের মুখে তারা তাদের মিত্রকে একা ফেলে যেতে পারে না।
সোমবার (৩০ মার্চ) মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে কঠোর অবরোধের মধ্যে থাকা আমাদের কিউবান বন্ধুদের পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং তেলের খুব প্রয়োজন। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এই জ্বালানি অপরিহার্য। মস্কো থেকে পাওয়া এই বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মিত্রদের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থন কেবল রাজনৈতিক নয় বরং মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ।
মার্কিন কোস্ট গার্ড কেন রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কারটিকে কিউবার পথে যেতে বাধা দেয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ জানান, কিউবায় মানবিক কারণে তেল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে মস্কো আগে থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করেছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে পেট্রোলিয়াম পণ্যের এই চালানটি সফলভাবে দ্বীপে পৌঁছেছে।’ অর্থাৎ, একটি পূর্ব-নির্ধারিত সমঝোতার ভিত্তিতেই এই জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। এই ঘটনাটি নির্দেশ করে যে, বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেও নির্দিষ্ট কিছু মানবিক ইস্যুতে বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব-এর একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পেসকভ জানান, রাশিয়ায় নতুন করে কোনো সামরিক সংহতি বা মোবিলাইজেশন ডাকার পরিকল্পনা নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এই বিষয়টি বর্তমানে ক্রেমলিনের আলোচ্যসূচিতেই নেই।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে জ্বালানি সম্পদ বিক্রির সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাশিয়া এখনো ইউরোপীয় বাজারসহ বিশ্বের যেকোনো বাজারে জ্বালানি সম্পদের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। পেসকভ পুনরায় নিশ্চিত করেন, রাশিয়া তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা তাদের সরবরাহ চেইন বজায় রাখতে চায়।
ক্রেমলিনের এই মুখপাত্র আরও নিশ্চিত করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার গ্যাস সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সোমবার সকালেই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিক ঘোষণা করেছিলেন, ৩১ মার্চ শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তির মেয়াদ আরও তিন মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
পেসকভ এই প্রসঙ্গে বলেন, রাশিয়া তার বন্ধুপ্রতিম এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ সার্বিয়ার প্রতি করা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সার্বিকভাবে রাশিয়ার এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলোর নানা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মস্কো তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জ্বালানি কূটনীতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরান ও ভেনিজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর এবার কিউবা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


