কৃত্রিম এনার্জি ড্রিংকের চেয়ে অনেক বেশি উপকারী হচ্ছে ডাবের পানি। বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে ডাবের পানির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময় শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং পেটের নানা সমস্যায় ডাবের পানি দারুণ কার্যকর। তবে কখন ডাবের পানি পান করা উচিত, সেটি জানেন কি?

আপনার শরীরের যত্নে ডাবের পানির জবাব নেই। প্রাকৃতিক এ ভেষজ পানীয় ভিটামিন ও মিনারেলে পরিপূর্ণ। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, সোডিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল, যা একটি ভালো উৎস। এছাড়া এতে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট থাকে, যা শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গরমকালে অতিরিক্ত ঘাম হলে বা শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ডাবের পানি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন ‘সি’ ও ‘বি’ কমপ্লেক্সের দারুণ উৎস। এটি ফ্যাটমুক্ত, ক্যালোরি কম এবং এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আপনার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ক্লান্তি দূর করতেও দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ডাবের পানি পান করলে হজমশক্তি মজবুত হয় এবং গ্যাস, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের মতো সমস্যা থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়। আর ডাবের পানিতে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক এনজাইম অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। যারা প্রায়ই অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য এটি প্রাকৃতিক উপশম হিসেবে কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্যও ডাবের পানি বেশ উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে যায়। ত্বক ও চুলের জন্যও ডাবের পানি ভীষণ উপকারী। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের যত্নেও ডাবের পানি বেশ উপকারী। যাদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি উপকারী হতে পারে।
তবে সবসময় তাজা ডাবের পানি পান করা শ্রেয়। অনেক সময় বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ডাবের পানিতে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক ও অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে, যা তেমন উপকার করে না। তাই সম্ভব হলে তাজা ডাবের পানিই বেছে নিন, তাহলেই মিলবে সর্বোচ্চ উপকার।
ডাবের পানি খাওয়ার সেরা সময় হচ্ছে সকালে খালি পেটে খাওয়া। এতে বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম উন্নত হয়। সারাদিন সতেজ থাকা যায়। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা বেশি ঘামেন, তাদের জন্য এটি দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
আর সাধারণত সুস্থ ব্যক্তি দিনে এক থেকে দুই গ্লাস বা প্রায় ৩০০-৪০০ মিলিলিটার ডাবের পানি পান করতে পারেন। তবে সব কিছুই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


