জুমবাংলা ডেস্ক : মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ও মাগুরায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এক পোশাককর্মী। আর মাগুরায় মারা গেছেন এক পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তি যিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সেবার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

Advertisement
ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ সারা দেশে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ছাড়পত্র নিয়ে যাওয়ার হার আগের তুলনায় বেড়েছে। যদিও নতুন রোগী ভর্তির হার ওঠানামা করেছে। বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ঈদের ছুটিতে একজন প্রকৌশলীসহ মারা গেছে ৯ জন।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া জানান, মৌসুমী বেগম নামের ২৫ বছর বয়সী এক নারী ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে মাগুরা সদর উপজেলার নরসিংহাটি গ্রামে জয়নাল শরীফ (৫২) নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান বলে জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান।

জয়নাল শরীফ নরসিংহাটি গ্রামের গফুর শরীফের ছেলে। ঢাকার একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে তিনি চাকরি করতেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, সরকারি হিসাবে ১১ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ১৭৩ জন, আর পুরনোসহ হাসপাতাল ছেড়েছে ছয় হাজার ৫৪ জন। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৮৮০ জন। ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৭৫৫ জন। বাকি এক হাজার ১২৫ জন ঢাকার বাইরে। সব মিলিয়ে গতকাল সকাল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল সাত হাজার ৮৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ঢাকায় চার হাজার ১৪৩ জন। ঢাকার বাইরে তিন হাজার ৭২৬ জন।

কীটতত্ত্ববিদ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারি বৃষ্টি হলে মশার লার্ভা ধুয়ে নেওয়ার একটি ভালো লক্ষণ থাকে, তবে তার চেয়েও বেশি ঝুঁকি ডেকে আনে নতুন করে জমে ওঠা পানির ছোঁয়া পেয়ে ডিম ফুটে যাওয়ার সুযোগের মাধ্যমে। তাই বর্ষার পরপরই যদি দ্রুত জমে থাকা নতুন পানি অপসারণ করা যায়, ততই ভালো হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, ১১ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১২ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ৯৩ জন, ১২ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২০০ জন, আর ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এক হাজার ৮৮০ জন। অন্যদিকে ওই তিন দিনের প্রথম দিনে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে দুই হাজার ৮৪১ জন। পরের দিন এক হাজার ৬৫৯ জন আর এর পরের দিন এক হাজার ৫৫৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে। সরকারি হিসাবে গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪০ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে জুলাই মাসে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google