গরমের একঘেয়েমি ভাঙতে না ভাঙতেই হঠাৎ করে বদলে যাচ্ছে আকাশের রঙ। সকালটা যতটা শান্ত, দুপুরের পর থেকেই যেন প্রকৃতির ভেতরে জমে ওঠে অস্থিরতা। এমন সময়েই আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন পূর্বাভাসে মিলল কালবৈশাখী ঝড়ের খবর, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই সতর্ক দৃষ্টি সবার।

বৃহস্পতিবার সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশের পাঁচটি বিভাগের মোট ৪৪টি জেলার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে। এই তালিকায় রয়েছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ। ঝড়ের সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত, আর কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার, এমনকি তার চেয়েও বেশি গতিতে ঝড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই ধরনের হঠাৎ ঝড় সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য হলেও এর তীব্রতা অনেক সময় বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
সকালের আরেকটি পূর্বাভাসে আকাশের চিত্রটা কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের শুরুতে বাতাসের গতি তুলনামূলক কম থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়া শুরু হতে পারে।
তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ভোর ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আর্দ্রতা ছিল বেশ বেশি—প্রায় ৯১ শতাংশ। এই উচ্চ আর্দ্রতাই অনেক সময় ঝড়ের পূর্বাভাসের একটি ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়।
একই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন আগেও যেখানে তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল, সেখানে হঠাৎ এই পতন অনেকের কাছেই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।
তবে স্বস্তির সঙ্গে সতর্কতাও জরুরি। কালবৈশাখী ঝড়ের সময় খোলা জায়গায় না থাকা, গাছপালা বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছ থেকে দূরে থাকা—এমন সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চলাই নিরাপদ। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই এই সময়ে একটু সচেতন থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ
এই মুহূর্তে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন যেন একদিকে গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, আবার অন্যদিকে নিয়ে আসছে অনিশ্চয়তার ছায়া। দিনের শেষে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


