
বিশ্বকাপ থেকে ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে থাকা তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সবশেষ ছয় ম্যাচে টানা বোল্ড হয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, মাশরাফি-সাকিবকে ছাড়িয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৩১ ম্যাচে বোল্ড হয়েছেন তামিম।তার আগে মাশরাফি-সাকিবরা ৩০ রান বোল্ড আউট হয়েছিলেন।
শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে লাসিথ মালিঙ্গার ইয়র্কার সামাল দিতে গিয়ে উইকেটের ওপর পড়ে গিয়েও বোল্ড আউট থেকে রেহাই পাননি তামিম।ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ৩১৫ রান তাড়া করতে গিয়ে ৯১ রানে হের যায়।
দ্বিতীয় ম্যাচে ইসুরু উদানার বলে বোল্ড হন তামিম। ওই ম্যাচে ১১৭ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত ২৩৮ রানের সম্মাননজক স্থানে নিয়ে যান মুশফিক। তিনি খেলেন ৯৮ রানের অনবদ্য ইনিংস। মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৭ উইকেটের দাপুটে জয়ে ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক শ্রীলংকা।
জাতীয় দলের নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির ইনজুরি আর সাকিব আল হাসান ছুটিতে থাকায় টাইগারদের নেতৃত্বের দায়িত্ব চলে আসে তামিম ইকবালের কাঁধে। ব্যক্তিগতভাবে অফ ফর্মে থাকা তামিমের নেতৃত্বে সিরিজ হারিয়ে মগজধোলাইয়ের লজ্জায় পড়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক সময়ে বাজে ফর্মে থাকায় তামিম ইকবালকে নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হচ্ছে। টাইগার সমর্থকদের অনেকেই মনে করছেন তামিম এখন দলের বোঝা। তবে তামিমের শৈশবের ক্রিকেট কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলেন, তামিমের আত্মবিশ্বাসে সমস্যা হচ্ছে। সে ফুটওয়ার্ক, টাইমিং এ সব নিয়ে দ্বিধায় ভোগে। তবে ভালো একটা ইনিংস খেলতে পারলে সেই সমস্যা কেটে যাবে। আমার মনে হয় না সে জাতীয় দলের জন্য বোঝা, এটা ভাবা ভুল।
লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ দলের ওপেনিংয়ের গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছেন তামিম। একপ্রান্তে নিয়মিত ওপেন করছেন তিনি। এখনও তার যোগ্য সঙ্গী হিসেবে কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তার সঙ্গে ওপেন করে সুবিধা করতে পারেননি, জুনায়েদ সিদ্দিকী, ইমরুল কায়েস, জহুরল ইসলাম অমি, শামসুর রহমান শুভরা। তাদের সেই জায়গায় এখন তামিমের সঙ্গি হিসেবে সফল হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন লিটস দাস ও সৌম্য সরকাররা।
এক সময়ে বয়সভিত্তিক দলের কোচের ভূমিকা পালন করা নাজমুল আবেদীন ফাহিম বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডেভেলপমেন্ট বিভাগে দায়িত্বরত আছেন। বর্তমানে জাতীয় দলে যারা খেলছেন তাদের অধিকাংশই কোনো না কোনোভাবে নাজমুল আবেদীন ফাহিমের ছাত্র।
তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার শুরুর সময়ের এই কোচ দেশসেরা ওপেনার প্রসঙ্গে বলেন, তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আরও কিছুদিন চলতে পারবে না, কারণ তার একজন যোগ্য পরিবর্তন প্রয়োজন। তামিমের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে, অনেক বছর ধরে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তাই আমার কাছে মনে হয় ঠিকমতো সমস্যা নিয়ে কাজ করলে, তার জন্য ফিরে আসা সহজ হবে।
তামিম ইকবাল প্রসঙ্গে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ বলেন, আমার মনে হয় খুবই খারাপ সময় যাচ্ছে ওর। ওকে বাদ দেয়ার চিন্তা না করে বরং কত তাড়াতাড়ি ফর্মে ফিরতে পারে তা ভাবা উচিত। ওর জায়গায় কে ভালো খেলছে এটা দেখতে হবে। এমন যদি হতো অন্য রিপ্লেসমেন্ট আছে, সে ক্ষেত্রে বাদ দেয়া যেতে পারে। এখন বয়সের প্রাইম টাইমে আছেন তিনি। বিকল্প তৈরি না করে বাদ দিলে আত্মঘাতী হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



