
বুধবার সন্ধ্যায় মাঝগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীর লাশ দ্রুত কবর দেয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা বাধা দেয়।
খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
নিহত আঁখি দক্ষিণ মালিপাড়া গ্রামের আলেক মিয়াজীর মেয়ে।
প্রতিবেশীরা জানায়, অজ্ঞাত কারণে আঁখিকে তার বাবা-মা গত ৬-৭ মাস ধরে একটি পরিত্যক্ত ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে। সার্বক্ষণিক জানালা-দরজা বন্ধ থাকা ঘরটিতে কোনো লাইট-ফ্যান ছিল না। খাবার হিসেবে পাউরুটি, শুকনা রুটি অথবা কখনও সামান্য ভাত দরজার চৌকাঠের নিচ দিয়ে ঠেলে দেয়া হতো। খাবার না পেয়ে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে সে মুত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
আঁখির সাথে বাবা-মার এই আচরণ কেন করতো জানতে চাইলে প্রতিবেশী রাজিয়া বেগম বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার নয় জানিয়ে বলেন, মালিপাড়া মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মেয়েটিকে আর সেখানে যেতে দেয়া হয়নি। তাকে বাবা-মা সব সময় ঘরে তালাবন্দি করে রাখতো। গ্রামের কারো বাড়িতে যেতে বা কারো সাথে কথা বলতে দিতো না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম জানান, তাকে ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি লোকমুখে শুনছি। ঘরে রেখে তার কবিরাজি কিছু চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু কি বিষয়ে কবিরাজ দেখানো হতো তা জানি না।
তবে আঁখির মা নাসিমা বেগম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আঁখি অসুস্থ ছিল তাই মারা গেছে।
বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


