বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ধীরে ধীরে অপরাধ কিছুটা কমলেও, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ জন খুন হয়েছেন। গত দুই বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা কিছুটা বেশি। খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জে। যদিও পুলিশ সদর দফতরের দাবি, দিনে গড়ে ১০টি খুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক। তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের চেইন অব কমান্ড এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী না হওয়ায় অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

গত ১২ জুন রাজধানীর রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এর কিছুদিন আগে নিউমার্কেট এলাকায় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনও গুলিতে নিহত হন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া রাজধানীতে একের পর এক ডাকাতি ও দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। গত ২৬ জুন আদাবরে একটি বিকাশের দোকানে ঢুকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বেড়েছে। এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। সাধারণ মানুষ বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। টাস্কফোর্স বা বিশেষ কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে খুন, ডাকাতি, চুরি ও নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ কমে এবং মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে খুনের ঘটনা ছিল দেড় হাজারের বেশি। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা আরও দুই শতাধিক বেড়ে যায়। আর চলতি বছর এখন পর্যন্ত খুন হয়েছে ১ হাজার ৭৭৫টি। একই সময়ে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ। আর মহানগরগুলোর মধ্যে খুন, ছিনতাই ও ডাকাতিতে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা।
খুন, ছিনতাই ও চুরি যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য বলছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টি খুন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসীর প্রশ্ন, কবে স্বাভাবিক হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি? কবে মানুষ আতঙ্ক ছাড়াই ঘর থেকে বের হতে পারবে?
তবে পুলিশ সদর দফতরের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ১০টি খুন বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহদাত হোসাইন বলেন, গত দুই দশক ধরেই দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ থেকে ১০টি খুনের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ওঠানামা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপরাধের মাত্রাও সহনীয় পর্যায়ে আছে। কোথাও আধিপত্য বিস্তার, কোথাও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কারণে অপরাধ হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ দমনে এখনো পুলিশের চেইন অব কমান্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন না। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, মাঠপর্যায়ের সদস্যরা দেখছেন, সংকট তৈরি হলে অনেক সময় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরে যান বা আত্মগোপনে থাকেন। ফলে দায়িত্ব নেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা তৈরি হয়েছে। অতীতের মতো সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন না। এ জায়গাতেই বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক করতে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে পুলিশ সদর দফতর।
সূত্র : সময় নিউজ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



