নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর বাজার থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক যেন এখন ভোগান্তির প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ। বর্ষা মৌসুমে কাদাপানিতে ঢেকে গিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, অনেক সময় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা, শ্রমিক ও পথচারীরা জানান, প্রতিদিনের যাতায়াতে এই সড়ক এখন এক বড় বাধা। বছরের পর বছর ধরে এমন অবস্থার পরও কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার শ্রমিক-সবাইকে পড়তে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে মাওনা-গাজীপুর বাজার সড়কের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)। প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে রয়েছে অন্তত চারটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন ভারী যানবাহন ও হাজারো শ্রমিকসহ স্থানীয় মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন।

এলজিইডি সূত্র আরও জানায়, ২০১৩ সালে এক কিলোমিটার অংশে এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ডিং) পদ্ধতিতে উন্নয়নকাজ করা হয়েছিল। তবে শিল্পকারখানার পানি নিষ্কাশনের জন্য বারবার খোঁড়াখুঁড়ির ফলে অল্প সময়েই সড়কটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর কোনো বড় ধরনের সংস্কার হয়নি।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক আবদুল মালেক বলেন, “বর্ষা মৌসুমে গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্ষা শেষে খানাখন্দের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে যাত্রীও উঠতে চায় না।”
রিদিশা নিটেক্স কারখানার শ্রমিক আনোয়ারা বেগম বলেন, “সড়কে এত বেশি গর্ত যে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, কখনো গাড়ি উল্টেও যায়। বাধ্য হয়ে হেঁটে চলতে হয়, এতে সময় ও শক্তি দুটোই নষ্ট হয়।”

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হোসেন বলেন, “নয়নপুর বাজার থেকে মেডিকেল মোড় পর্যন্ত সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমরা অবগত। বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই, তবে প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা-দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার করা হবে, যাতে স্বাভাবিক যাতায়াত ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


