ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও ৪ জন প্রার্থীর ফল আপাতত ঘোষণা করা হচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে তিনজনই বিএনপির প্রার্থী। মূলত প্রার্থিতা-সংক্রান্ত মামলা অপেক্ষমাণ থাকায় তাঁদের ফল ঘোষণা নির্ভর করছে আদালতের আদেশের ওপর।

এর মধ্যে নির্বাচনে জিতলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত থাকছে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের। গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচন করতে পারবেন; তবে বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি ইসি আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখে।
ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক পৃথক রিট করলে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক আপিল বিভাগে আবেদন করে। আনোয়ার সিদ্দিকীর করা লিভ টু আপিল ও ব্যাংকের করা আবেদনের ওপর গত সোমবার শুনানি হয়। পরে মঙ্গলবার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
এদিকে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রও বৈধ ঘোষণা করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি ইসি সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর রিট করলে হাইকোর্ট ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন নুরুল আমিন।
আপিল বিভাগ মঙ্গলবার লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। আদেশে বলা হয়, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন সরোয়ার আলমগীর; তবে তিনি বিজয়ী হলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা শেরপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ফাহিম চৌধুরী নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে গত ১৮ জানুয়ারি তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কিবরিয়া হাইকোর্টে রিট করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গোলাম কিবরিয়া লিভ টু আপিল করেন।
গত মঙ্গলবার আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করেন। তবে ফাহিম চৌধুরী বিজয়ী হলেও তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা নির্ভর করবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর।
এ ছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা ও ঋণখেলাপির অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে তিনি ইসিতে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। পরে রিট করলে হাইকোর্ট তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন। তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন একই আসনের বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হাসান আহমেদ।
আপিল বিভাগ ১ ফেব্রুয়ারি হাসান আহমেদের করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন। এতে মোবাশ্বের নির্বাচন করতে পারলেও আপিলের সিদ্ধান্তের ওপর তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা নির্ভর করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


