বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপাল চালুর আলোচনা নতুন কিছু নয়, তবে এবার বিষয়টি আবারও সামনে এলো জাতীয় সংসদের মেঝেতে। বুধবারের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, শুধু কথায় নয়—বাস্তব উদ্যোগের মধ্য দিয়েই এই সেবাটি চালুর পথ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, দেশে হাই-টেক পার্ক ও ICT Centerগুলোকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার পাশাপাশি PayPal-এর কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি কীভাবে দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে সেবা চালু করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশে পেপাল নিয়ে আগ্রহের ইতিহাস বেশ পুরোনো। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি এ দেশে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তখনই বিষয়টি কিছুটা গতি পায়।
গত বছরের ডিসেম্বরেও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, পেপাল বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে আগ্রহী। তার বক্তব্যে তখন স্পষ্ট হয়েছিল, বিষয়টি কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই—প্রক্রিয়াগত দিকও এগোচ্ছে।
মূলত দেশের ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতে যুক্ত তরুণদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে না পারার কারণে অনেকেই এখনো বিকল্প পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছেন। পেপাল চালু হলে সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, PayPal-এর দক্ষিণ এশিয়া টিম, যারা সিঙ্গাপুর থেকে পরিচালিত হয়, তারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও ICT বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব আলোচনায় প্রযুক্তিগত ও নীতিগত দিকগুলো নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা যায়।
তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে কবে নাগাদ ব্যবহারকারীরা সরাসরি পেপাল ব্যবহার করতে পারবেন, তা স্পষ্ট নয়। তারপরও সরকারের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপ অনেকের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ
ভুয়া অ্যাপল পে সতর্কবার্তায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করছে প্রতারক চক্র
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকলেও বাস্তবায়নের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। সামনে কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


