নির্বাচন কেবল সংখ্যা বা রাজনৈতিক কৌশলের বিষয় নয়; এটি নাগরিক হিসেবে আপনার সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আপনার একটি ভোটই জানিয়ে দেয়—দেশের সিদ্ধান্তে আপনার মতামতের গুরুত্ব রয়েছে।

আজ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বহু তরুণ নাগরিক প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। নতুন ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও, প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকের মনে দ্বিধা বা সংশয় কাজ করতে পারে। সেই সংশয় দূর করতে ভোট দেওয়ার নিয়মাবলী আগেভাগে জেনে রাখা জরুরি।
এবারের নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একটি গণভোট। নির্বিঘ্নে ভোট দিতে হলে প্রক্রিয়াগুলো আগে থেকে জেনে রাখা ভালো।
আপনার ভোটকেন্দ্র কোথায়?
প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে অনেকেই ভুল কেন্দ্রে চলে যান বা কেন্দ্র খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেন্দ্র জানার কয়েকটি সহজ উপায় জানিয়েছে—
১. এসএমএস সেবা:
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:
PC <স্পেস> NID নম্বর
এটি ১০৫ নম্বরে পাঠান। ফিরতি বার্তায় ভোটকেন্দ্রের নাম ও ভোটার সিরিয়াল নম্বর জানানো হবে।
২. অনলাইন পোর্টাল:
ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৩ ডিজিটের এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও ক্যাপচা পূরণ করে কেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। নির্বাচনের আগে সার্ভারে চাপ বাড়তে পারে—তাই আগেভাগে দেখে নেওয়া উত্তম।
৩. মোবাইল অ্যাপ:
‘Smart Election Management BD’ অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাপসহ ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও ছবি দেখা যাবে।
৪. হটলাইন:
টোল-ফ্রি নম্বর ১০৫-এ কল করে সহায়তা পাওয়া যাবে। সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে (সকাল ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত)।
সঙ্গে যা যা রাখবেন
ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে রাখা উত্তম। যদিও এনআইডি ছাড়া ভোট দেওয়া যাবে না—এমন বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই, তবে এটি থাকলে পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ হয়।
এনআইডি হারিয়ে গেলে আগেই ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করুন। প্রয়োজনে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। ভোটার স্লিপ থাকলে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়।
ভোট দেওয়ার ধাপসমূহ
ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
১. কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারকে এনআইডি দেখান।
২. পরিচয় নিশ্চিত করতে মুখমণ্ডল অনাবৃত রাখুন।
৩. ভোটার তালিকায় আপনার নাম চিহ্নিত করা হবে।
৪. আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে—
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য (সাধারণত সাদা)
গণভোটের জন্য (সাধারণত গোলাপি)
৫. ব্যালটে কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর আছে কি না নিশ্চিত করুন।
৬. বাম হাতে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে।
৭. গোপন বুথে গিয়ে পছন্দের প্রতীকের পাশে সিল মারুন।
৮. ব্যালট সাবধানে ভাঁজ করুন, যাতে কালি অন্য প্রতীকে না লাগে।
৯. নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট ফেলুন।
এর মাধ্যমে আপনার ভোট প্রদান সম্পন্ন হবে।
যেসব নিয়ম মানতে হবে
ব্যালট পেপারের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রচারণামূলক সামগ্রী বহন বা প্রদর্শন করা যাবে না।
অন্য ভোটারকে প্রভাবিত করা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয়।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক আচরণ করুন।
কেন আপনার ভোট গুরুত্বপূর্ণ?
নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়—এটি নাগরিক দায়িত্ব। আপনার ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় নীতিনির্ধারণের দিকনির্দেশনা।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না; এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে।”
ভোটাধিকার প্রয়োগ মানে নিজের কণ্ঠস্বরকে দৃশ্যমান করা। তাই দ্বিধা নয়—সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে অংশ নিন ভোট উৎসবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


