তালসারির সমুদ্রতটে ঘটে যাওয়া সেই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও স্পষ্ট হয়ে ওঠেনি পুরো ছবিটা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো প্রথম দিন থেকেই উঠছিল, সেগুলোর অনেকটাই আজও অমীমাংসিত। এরই মধ্যে বিচারের দাবিতে সরব হয়েছে টলিপাড়া, আর সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।

শনিবার বিকেলে কলকাতায় প্রতিবাদের আবহে একত্রিত হয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখেরা। সেখানে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে। তাঁদের উপস্থিতি যেন স্পষ্ট করে দিল, এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ শুধু পরিবারের নয়, গোটা ইন্ডাস্ট্রির।
প্রতিবাদের পরের ঘটনাপ্রবাহও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সেই রাতেই প্রিয়াঙ্কাকে সঙ্গে নিয়ে তালসারিতে পৌঁছন প্রসেনজিৎ ও ঋতুপর্ণা। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা—সব মিলিয়ে বিষয়টি যে গুরুত্ব পাচ্ছে, তা স্পষ্ট।
এর মধ্যেই আইনি পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। রিজেন্ট পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা নিজে তালসারি থানায় আলাদা করে অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রযোজক শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।
প্রিয়াঙ্কার এফআইআর-এ বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তার দিকটিও অবহেলিত ছিল। এমনকি পরিকল্পিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে শুটিং চালানো হচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
একটি বিষয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছিল—অভিযোগ জানাতে এত দেরি হল কেন? নিজের বক্তব্যে প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট করে বলেছেন, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। সেই আঘাত কাটিয়ে উঠতেই সময় লেগেছে, আর সেই কারণেই অভিযোগ জানাতে বিলম্ব হয়েছে।
ঘটনার দিন, ২৯ মার্চ, ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জলে ডুবে মৃত্যুর কথা বলা হলেও, ঠিক কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এই ধোঁয়াশাই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে অভিযোগের পর তদন্ত যে নতুন গতি পাবে, তা নিয়ে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা এবং সহকর্মীরা।
আরও পড়ুনঃ
পুরো ঘটনাটাই যেন এক অস্বস্তিকর প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উত্তর মিলবে কি না, আর কবে মিলবে—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সবাই।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


