এক সময় বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার অজোপাড়া গ্রামে রোদে পুড়ে মাঠে কাজ করতেন। পেটের তাগিদে প্রায় এক দশক আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন মায়ানগরী মুম্বাইয়ে। সেই সাধারণ দিনমজুর দিলীপ মুখিয়া আজ বলিউডের জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারাহ খানের ছায়াসঙ্গী। অমায়িক ব্যবহার আর রান্নার জাদুতে তিনি এখন কেবল ফারাহর রান্নাঘরই সামলান না, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেরও জনপ্রিয় মুখ।

২০০৩ সালে সবিতার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দিলীপের সংসারে রয়েছে তিন ছেলে। শুরুতে ছোটখাটো কাজ করলেও প্রায় ১০ বছর আগে ফারাহ খানের বাড়িতে রাঁধুনি হিসেবে যোগ দেন তিনি। তবে কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর ব্যক্তিত্বের গুণে দ্রুতই তিনি পরিবারের সদস্যের মর্যাদা পান। বছরখানেক আগে ফারাহ খান তার ইউটিউব চ্যানেল শুরু করলে ক্যামেরার সামনে নিয়ে আসেন দিলীপকে। বিভিন্ন তারকাদের প্রিয় খাবারের রেসিপি শেয়ার করে তিনি এখন কোটি কোটি মানুষের প্রিয় ‘সোশ্যাল মিডিয়া স্টার’।
এক সময়ের অভাবী সেই যুবক এখন প্রতি মাসে আয় করেন ১ লাখ টাকারও বেশি। ফারাহ খান মজা করে একবার জানিয়েছিলেন, ১ লাখ টাকার অভিনয়ের অফারও দিলীপ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কারণ তার সময় ও মেধার কাছে সেই অঙ্কটি এখন সামান্য। বর্তমানে তিনি একটি বিলাসবহুল বিএমডব্লিউ গাড়ির মালিক বলেও শোনা যায়।
নিজের শেকড়কে ভুলে যাননি দিলীপ। নিজ গ্রামে তৈরি করছেন তিন তলাবিশিষ্ট ৬ কামরার এক বিশাল অট্টালিকা। বর্তমানে সেখানে তার স্ত্রী ও সন্তানরা থাকেন। গুঞ্জন আছে, সেই বাড়িতে একটি আধুনিক সুইমিং পুল বানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
আরও পড়ুনঃ
বিহারের গ্রাম থেকে মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার জগত, দিলীপ মুখিয়ার এই জীবনযুদ্ধ আজ অনেক মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। ফারাহ খান কেবল তাকে কাজের সুযোগই দেননি, দিয়েছেন এক নতুন পরিচয় ও সম্মান। দিলীপ এখন কেবল একজন রাঁধুনি নন, পরিশ্রম আর ভাগ্যের মেলবন্ধনে গড়া এক সফল ব্যক্তিত্ব।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


