
জুমবাংলা ডেস্ক : গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে আবারো ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাবার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি বস্তা নিক্ষেপ করছে। কিন্তু তাতেও ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না।
ওই ইউনিয়নের চর মাদারিপাড়া, কারেন্ট বাজার ও পাড়াসাদুয়া গ্রামের ৫০টি বসতবাড়ি গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে তিস্তার চর এলাকায় নদীর পানি ঢুকে পড়েছে।
হঠাৎ করে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই তিনটি গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীরা ভাঙনের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কারণ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই ভাঙনের তীব্রতা শুরু হয়। ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ছাড়াও বেশকিছু আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
কারেন্ট বাজার গ্রামের বাচ্চু মিয়া বলেন, তিস্তায় হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ফলে তার গ্রামের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর ভাঙনের আশঙ্কায় আমরা উদ্বিগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।
হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি জানান, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে হরিপুরের চর মাদারি পাড়া, কারেন্ট বাজার, পাড়াসাদুয়া গ্রামের কমপক্ষে ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেললেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, অব্যাহত ভাঙনে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদী ড্রেজিং করে সোজা করা না হলে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হবে না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মণ্ডল জানান, অবিরাম বর্ষণের কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চন্ডিপুর, হরিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন ঠেকাতে বালির বস্তা ফেললেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে শ্রীপুর এলাকায় সিসি ব্লক দ্বারা তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। হরিপুর এলাকাতেও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


