বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বেজপা) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি টোকিওতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। চুক্তির প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিনিময়ে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা পাবে। এছাড়া জাপানের ১২০টি এবং বাংলাদেশের ৯৭টি উপখাত একে অপরের জন্য উন্মুক্ত হবে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিক দর-কষাকষি শুরু হলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণে প্রক্রিয়াটি সাময়িক থমকে গিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেয়। গত এক বছরে ঢাকা ও টোকিওতে মোট সাত রাউন্ড আলোচনার পর চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সুবিধা ধরে রাখাই এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি-র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এটি কেবল বাজার সুবিধাই নয়, জাপানি বিনিয়োগ বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জাপান চীন থেকে তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে আনার যে পরিকল্পনা করছে, বাংলাদেশ এই চুক্তির মাধ্যমে তা কাজে লাগাতে পারে।
তবে কিছু বাণিজ্য বিশেষজ্ঞের মতে, জাপান ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি দেশগুলোর জন্য জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়ায় এই চুক্তি নিয়ে খুব বেশি তাড়াহুড়োর প্রয়োজন ছিল না। তা সত্ত্বেও, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও সেবা খাতের প্রসারে এই চুক্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


