জুমবাংলা ডেস্ক : ‘বাংলাদেশে ভুল, অসত্য কিংবা ফেব্রিকেটেড সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনও পত্রিকা বন্ধ হয় না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পাশাপাশি জানালেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে।

Advertisement
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ১০ জুলাই লন্ডনে শুরু হতে যাওয়া সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন তথ্যমন্ত্রী।

সেখানে বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে।”

এদিকে রিপোর্টার্স উইথ আউট বর্ডারসের ২০১৯-এর প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় যুক্তরাজ্যের অবস্থান ৩৩-এ, বাংলাদেশের ১৫০-এ।

হাছান মাহমুদ বলেন, “প্রথমত এই যে ইনডেক্সগুলো তৈরি করা হয় সেগুলো কোনও সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে করা হয় আমি তা জানি না। বাংলাদেশের পুরো গণমাধ্যম বর্তমানে যে স্বাধীনতা ভোগ করে, সেটি ইউকে-তেও অত স্বাধীনতা সবক্ষেত্রে সব সময় ভোগ করে না”।

উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যে ভুল সংবাদ পরিবেশনের জন্য কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “বাংলাদেশে ভুল, অসত্য কিংবা ফেব্রিকেটেড সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনও পত্রিকা বন্ধ হয় না।”

তিনি আরো জানান, ভুল বা অসত্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য যুক্তরাজ্যে জরিমানা গুনতে হয়। যেটা বাংলাদেশে করা হয় না।

১০ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় সমাজের রাজনীতিতে জবাবদিহি কমে যাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ কী- এ নিয়ে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম কিছু বণিক-গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে। ফলে তারা চাইলেও সেই বণিক গোষ্ঠীর সমালোচনা করতে পারে না অনেক ক্ষেত্রে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “সেই বণিক গোষ্ঠী অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। কিন্তু এটার স্বাধীনতা রক্ষায় যারা এর পেছনে অর্থলগ্নি করেছে, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ না করে কীভাবে কাজ করা যায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।”

বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা সেলফ সেন্সরের মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কারণে। এ ছাড়া, রাজনীতিকদের কাছ থেকে হুমকি-ধমকি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, “সেটি দু-একজন হয়তো বলতে পারে। তবে তারা সেটা বহুদিন ধরে বলে আসছে।”

বাংলাদেশে গত ১০ বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ২০০৮ সালে দৈনিক সংবাদপত্রের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭শ, এখন এই সংখ্যা প্রায় ১৩শ। টেলিভিশনের সংখ্যা অন-এয়ারে আছে ৩৪টি। লাইসেন্স দেওয়া আছে ৪০টির।

তবে গণমাধ্যমের সংখ্যা দিয়ে কী প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করছেন – এমন প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বলছি না যে সাংবাদিকদের ওপর কেউ কেউ যে খবরদারির চেষ্টা করে না। সেটি যে হয় না বা একেবারেই কোনোভাবেই কোনো জায়গা থেকে হয় না বা হচ্ছে না – তা আমি বলবো না।”

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google