ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৮ দিন বাকি। সময়ের এই হিসাব বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে আগে ঘোষিত ৩১ দফাসহ জনকল্যাণমুখী ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। এখন চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই দলের স্থায়ী কমিটি ইশতেহার চূড়ান্ত করবে, যা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা হবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ইশতেহার তৈরির কাজ প্রায় শেষ। ২০ জানুয়ারির মধ্যে তা চূড়ান্ত হবে। আশা করি, শিগগিরই আমরা ইশতেহার ঘোষণা করতে পারব।
নতুন ভাবনার মধ্যে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় রেখে এগোচ্ছে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের মূল বিষয়গুলোও ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আদলে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ তৈরির পরিকল্পনা এবং বিএনপি নির্বাচিত হলে ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগে-পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করবে বিএনপি।
জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিএনপি ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, ‘ভিশন ২০৩০’, জুলাই জাতীয় সনদ এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ৮টি বিশেষ খাতের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৩১ দফার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারসহ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি থাকবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা পৌনে ১৩ কোটি। এর মধ্যে একেবারে নতুন ভোটার আছে প্রায় এক কোটি। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তরুণ ভোটাররা এবার নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। গত তিনটি নির্বাচনে দেশের বেশির ভাগ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ অনেক বেশি। তাই তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। ৬০ বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯৩ লাখের বেশি। তাদের জীবনমানের বিষয়টিও নজরে রাখা হচ্ছে। নারী ভোটার সংখ্যা ৬ কোটির বেশি হওয়ায় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানি ভাতাসহ জনকল্যাণমুখী এই ৮টি খাতের প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দলটি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও কৃষিপ্রযুক্তি পাবেন কৃষকরা। প্রত্যেকের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াসহ শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ক্রীড়াকেও পেশা হিসেবে গ্রহণযোগ্য করতে সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি। নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং বাড়িয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা হবে। কর্মসংস্থানে এসএমই, বস্ত্র অর্থনীতি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আইসিটি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। বিদেশি শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ খুঁজে আরও বেশি তরুণকে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা করা হবে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইশতেহারে ৩১ দফা এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগেই জানিয়েছেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের আদলে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে বড় মেগা প্রকল্পের চেয়ে কর্মক্ষম মানুষের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ তৈরি করা হবে।
আরও পড়ুনঃ
https://inews.zoombangla.com/ঢাকা-সেন্ট্রাল-ইউনিভার্-2/
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মূলত বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোই ইশতেহারের মূল ভিত্তি। নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


