কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজীবপুর উপজেলায় টানা দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই দুই উপজেলায় কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর কোম্পানির নেটওয়ার্ক সেবা থেকেও বঞ্চিত হন গ্রাহকরা। ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। এদিকে রৌমারীতে একটি-দুটি সিম কোম্পানির মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ কোম্পানির নেটওয়ার্ক একদমই নেই বললেই চলে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল মিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কার্যত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেও মাস শেষে অতিরিক্ত বিল গুনতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি গত ১৫ দিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় যানবাহন চলাচলও সীমিত হয়ে পড়েছে। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকগুলো চার্জ দিতে না পারায় রাস্তায় গাড়ি নেই বললেই চলে। ফলে অল্প কিছু যানবাহন চললেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালক স্বাধীন মিয়া বলেন, কারেন্ট না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না। গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। দিন এনে দিন খাই—এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।
এ দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতেও দেখা দিয়েছে সংকট। অল্প কিছু যানবাহন পাওয়া গেলেও ভাড়া গুনতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বেশি।
রৌমারীর চরশৌলমারী বাজারের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, টানা ৭২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ হয়ে গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলেন, কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছিল। শনিবার থেকে টানা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে সংবাদ সংগ্রহ ও পাঠাতে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেল পাম্প বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাফিউর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও লোডশেডিং সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
চর রাজীবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সায়েকুল হাসান খানও জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জামালপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
পুলিশের ওপর থেকে জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
টানা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এই দুই উপজেলায়। দ্রুত সমস্যার সমাধান চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


