
হেনসি ক্রনিয়ের ম্যাচ পাতানোর ঘটনার ২০ বছর পূর্তির আগে আজ আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের মহা-ব্যবস্থাপক আলেক্স মার্শাল জানিয়েছেন গেল বিশ্বকাপে ৬ জন অধিনায়ককে জুয়াড়িরা ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। আর বর্তমানে তারা এই ধরনের অভিযোগের ৫০টি মামলা পরিচালনা করছে। সেগুলোর তদন্ত চলছে।
মার্শাল বলেছেন, ‘আমরা এখনকার সময়ে বেশ ভালো ফিডব্যাক পাচ্ছি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে। কারণ, আমরা খেলোয়াড়দের সম্ভাব্য জুয়াড়িদের ছবি দেখিয়েছি। গেল বিশ্বকাপের সময়ও ওইসব জুয়াড়িরা বেশ কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ভবিষ্যত টি-টোয়েন্টি ইভেন্টগুলোকে ম্যাচ পাতানোর বিষয়ে। যদিও সেগুলোর কোনোটিই বিশ্বকাপে ম্যাচ পাতানোর বিষয়ে ছিল না। সেই দিক দিয়ে আমরা বলতে পারি বিশ্বকাপ ছিল নিষ্কলঙ্ক। বিশ্বকাপে খেলা ৬ জন অধিনায়ক আমাদের কাছে রিপোর্ট করেছে যে তারা জুয়াড়িদের কাছ থেকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছে’।
জুয়াড়িরা অধিনায়কদের বেশি টার্গেট করে। আর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বেশি টার্গেট করে আর্থিকভাবে দুর্বল দলগুলোকে। এ বিষয়ে মার্শাল বলেছেন, ‘জুয়াড়িরা অধিনায়কদের বেশি টার্গেট করে। কারণ, তারা মাঠে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর তাদের পছন্দ উদ্বোধনী দুই ব্যাটসম্যান ও বোলার। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। জুয়াড়িরা আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছ্বল হয়। তারা অনেক টাকা ঢালতে পারে। তাই তারা বিভিন্ন লিগে ভালো করতে থাকা আর্থিকভাবে দুর্বল দলগুলোকে টার্গেট করে। এমন কিছু দলকে টার্গেট করে যারা প্রথম বিভাগ থেকে প্রিমিয়ার বিভাগে উঠে আসে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব চলছে। সেখানে তিনটি দলের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সেই তালিকায় আরব আমিরাতও রয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। নিষিদ্ধও করা হয়েছে।’
অবশ্য মার্শাল ক্রিকেটে ম্যাচ পাতানোর যে ঝুঁকি রয়েছে সেটাকে উড়িয়ে দিতে পারছেন না। তিনি মনে করছেন হয়তো জুয়াড়িরা কাউকে না কাউকে পেয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জুয়াড়িরা যা বিনিয়োগ করে, তার চেয়ে অনেক বেশি আয় করতে পারে, ‘আসলে কেউ না কেউ তাদের ফাঁদে পা দেয়। সেই ঝুঁকিটা কিন্তু সব সময়ই থাকে। তবে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হল হেনসি ক্রনিয়ের সময়ে দুর্নীতি দমন আচরণবিধি ছিল না। ছিল না দুর্নীতি বিরোধী শিক্ষার ব্যবস্থা, প্রচার-প্রচারণা। ছিল না দুর্নীতি দমন ইউনিট। এখন আছে। জুয়াড়িরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছ্বল হওয়ায় টার্গেট করা খেলোয়াড়দের পেছনে অনেক টাকা খরচ করে। সেখানে একজনকে পেলেও তারা খরচ করা টাকার অনেক বেশি বেটিংয়ের মাধ্যমে তুলে ফেলতে পারে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



