বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর নয়, এটি প্রযুক্তি, নকশা ও উদ্ভাবনেরও এক ধারাবাহিক প্রদর্শনী। ১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল সরবরাহ করে আসছে অ্যাডিডাস। এরপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই বলের ডিজাইন ও প্রযুক্তিতে এসেছে বড় পরিবর্তন যা ফুটবলের খেলার ধরন, গতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেও বদলে দিয়েছে।

বিশ্বকাপ অফিসিয়াল বল

Advertisement

১৯৭০–১৯৮০: আধুনিক যুগের সূচনা

১৯৭০ সালের টেলস্টার বল দিয়ে শুরু হয় নতুন যুগ। টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য বিশেষভাবে কালো-সাদা ডিজাইনে তৈরি এই বল দ্রুতই আইকনে পরিণত হয়। এর পর আসে জলরোধী উন্নত সংস্করণ এবং ১৯৭৮ সালের ট্যাঙ্গো ডারলাস্ট, যার ডিজাইন দীর্ঘদিন বিশ্বকাপ বলের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ১৯৮২ সালের ট্যাঙ্গো এস্পানা ছিল শেষ চামড়ার বল, যেখানে প্রথমবার অ্যাডিডাস লোগো যুক্ত হয়।

১৯৮৬–১৯৯৮: কৃত্রিম উপাদান ও ডিজাইনের বিপ্লব

১৯৮৬ সালের আজটেকা প্রথম সম্পূর্ণ কৃত্রিম উপাদানের বল, যা পানি শোষণ কমিয়ে পারফরম্যান্স বাড়ায়।
১৯৯০-এর এত্রুসকো ইউনিকো থেকে ভেতরে উন্নত ফোম ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৯৪ সালের কুয়েস্ত্রা হেডিং শক কমানোর প্রযুক্তি আনে। ১৯৯৮ সালের ট্রাইকোলোর প্রথম রঙিন বিশ্বকাপ বল, যা আধুনিক ডিজাইনের পথ খুলে দেয়।

২০০২–২০১০: উচ্চ প্রযুক্তির প্রবেশ

২০০২ সালের ফিভারনোভা বলের গতিপথ আরও স্থিতিশীল করে। ২০০৬সালের +টিমগাইস্ট প্যানেল প্রযুক্তিতে বড় পরিবর্তন আনে সেলাইয়ের বদলে তাপ-সংযুক্ত প্যানেল ব্যবহার হয়। ২০১০ সালের জাবুলানি তার অপ্রত্যাশিত গতিপথ ও নতুন পৃষ্ঠের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

২০১৪–২০২২: ডিজিটাল ও পরিবেশবান্ধব যুগ

২০১৪ সালের ব্রাজুকা জনভোটে নামকরণ হওয়া প্রথম বল এবং সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক প্রচারণার প্রতীক। ২০১৮ সালের টেলস্টার ১৮-তে যুক্ত হয় এনএফসি চিপ, যা ডিজিটাল কনটেন্টের সঙ্গে সংযোগ দেয়। ২০২২ সালের আল রিহলা উন্নত বায়ুগতিবিদ্যা ও পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারে তৈরি হয়।

২০২৬: ‘ট্রিওন্ডা’ স্মার্ট বলের যুগ

২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল “ট্রিওন্ডা” যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুপ্রাণিত। এর ডিজাইনে তিন দেশের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা।

এই বলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো স্মার্ট সেন্সর প্রযুক্তি। এতে থাকা ৫০০ হার্টজ মোশন সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে শত শত ডেটা সংগ্রহ করে বলের গতি, ঘূর্ণন ও অবস্থান রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করবে। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠানো হবে, যা অফসাইড, হ্যান্ডবল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরও নির্ভুল করবে।

আরও পড়ুনঃ

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হলেন তামিম

এছাড়া বলটির ভেতরে থাকা হালকা চিপ (প্রায় ১৪ গ্রাম) পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলবে না এবং এটি এক চার্জে একটি পূর্ণ ম্যাচ চলার মতো শক্তি ধরে রাখতে পারবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.