মধ্যপ্রাচ্যে তেলের সরবরাহে ঝুঁকি কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এর ফলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো সাপ্তাহিক পতনের দিকে যাচ্ছে তেলের বাজার। বিনিয়োগকারীরা এখন ওমানে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন–ইরান পারমাণবিক আলোচনার ফলাফলের দিকে নজর রাখছেন।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৫০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ দশমিক ০৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনে এই তেলের দাম ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছিল। একই দিনে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৫২ সেন্ট বা ০ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমেছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে এই দুই সূচক নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেলেও আঞ্চলিক দেশগুলো বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে আগ্রহী। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ওমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এছাড়া সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাক তাদের অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়েই রপ্তানি করে।
ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মার্কিন–ইরান উত্তেজনা সাময়িকভাবে তেলের দাম বাড়ালেও শেষ পর্যন্ত বাজারের মৌলিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতিই দাম নির্ধারণ করবে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কাজাখস্তানের তেল উৎপাদন দ্রুত পুনরুদ্ধার হলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


