প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অপেক্ষা করছিলেন ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য । যখন সিগনাল দিচ্ছিল না বিক্রম, টানটান সেই উত্তেজনার সময় উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে ভাষন দেন তিনি।সে সময় ইসরোর বিজ্ঞানিরা সর্বশেষ প্রাপ্ত ডাটা বিশ্লেষন করছিলেন। দুই দশমিক এক কিলোমিটার অলটিটুডে সবকিছু ঠিকমতোই এগোচ্ছিলো, জানিয়েছেন বিজ্ঞানিরা । নরেন্দ্র মোদী সবাইতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, যে কোন পরিস্থিতিতে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। বক্তব্য আর আলোচনার ফাঁকে মোদী টুইটে লিখেন, ভারত তার বিজ্ঞানীদের নিয়ে গর্বিত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরোতে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন করেননি প্রধানমন্ত্রী, আজ সকাল আটটায় তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।
চন্দ্রযানের ল্যান্ডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্টেশনে উপস্থিত বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, আপনারা যা অর্জন করেছেন, আমাদেরকে যা দিয়েছেন তাও কিন্তু কম নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুধু নন, দ্য বিগমুন অভিযান দেখতে পর্দায় চোখ রাখা প্রতিটি মানুষের বুক ঢিপঢিপ করছিলো। কাউন্টডাউনে চোখ গেছে বার বার, উত্তেজনা ও আগ্রহ ছিলো বাংলাদেশসহ সব প্রতিবেশি দেশে। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় জনগণের পাশাপাশি সার্ক দেশগুলোর মানুষ অপেক্ষা করছিলেন বিস্ময়জাগানিয়া সাফল্যের। সবার বুকজুড়েই টান টান উত্তেজনা কাজ করছিলো। উদ্বেগও ছিলো, কারণ প্রথমবারের ব্যর্থতা মনে আছে সবারই। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত পৌণে তিনটার দিকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিক্রমের অবতরণ করার কথা ছিলো। এখন পর্যন্ত কোনো মহাকাশ যান চাঁদের এতো দক্ষিণে যায়নি। টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি
বেঙ্গালুরুতে ইসরোর ট্র্যাকিং এন্ড কমান্ড নেটওয়ার্ক সেন্টার থেকে সরাসরি সম্প্রচার দেখেছিলো বিশ্ববাসী। মিশন কন্ট্রোল রূমে বিশাল স্ক্রিনে চোখ রেখে তুমুল ঠাণ্ডাতেও ঘামছিলেন বিজ্ঞানী এবং কর্মরত সব স্টাফ। শেষ ১৫ মিনিট খুব টাফ ছিলো অপেক্ষার জন্য, যাকে বলা হচ্ছিলো ফাইন ল্যান্ডিং ফেজ। এনডিটিভি বলছিলো, ভীতিকর ১৫ মিনিট পার করছে ইসরো। সেই ১৫ মিনিট পার হলো। কিন্তু বিক্রম থেকে একটি মাত্র ডাটার পর আর কোনো যোগাযোগ নেই। ডাটা আসতে দেরি হচ্ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন ইসরোর প্রধান। কিছু একটা সমস্যা হয়েছে হয়তো, ব্রিফিং করা হবে বলে জানালো কর্তৃপক্ষ।
ব্রিফিং এ জানানো হলো দুই দশমিক এক কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ঠিকমতোই যাচ্ছিলো বিক্রম। এরপর থেকে নেটওয়ার্কে আর বিক্রমের দেখা মিলছে না। ডাটাও আসছে না। এই পরিস্থিতিতিতে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সাহস জুগিয়েছেন। কথা বলেছেন উপস্থিত সবার সঙ্গে।
এনডিটিভি বাংলা লিখেছে, প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে প্রথম দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় ছিল ভারত, তবে রাত ১.৫৫, সময়টা এল এবং চলে গেল, মিশন সফল হওয়ার কোনও বার্তা এল না। কন্ট্রোলরুমে বসে লা্ইভ দেখছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান ইসরোর বিজ্ঞানীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজ্ঞানীদের বলেন, “এটা জীবনের উত্থান ও পতন। এটা কম কৃতিত্ব নয়। আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা সবাই দেশ, বিজ্ঞান ও মানুষের জন্য দারুণ কাজ করেছেন, সবরকমভাবে আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি, সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলুন”।
এর আগে, ১.৩০ থেকে ২.৩০ এর মধ্যবর্তী সময়ে অবতরণের আগে, মূল অরবিট থেকে আলাদা হয়ে যায় ল্যান্ডার বিক্রম, তারপরে বেশ কয়েকটি উতরাই হয় তার। শেষের কিছুক্ষণ সময়কে “আতঙ্কের ১৫ মিনিট” বলে ব্যাখা করেছে ইসরো। পৃষ্ঠ থেকে ২.১ কিলোমিটার দূরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ইসরোর প্রধান কে শিবান বলেন, “বিক্রম ল্যান্ডার ছিল পরিকল্পিত এবং ২.১ কিলোমিটার পর্যন্ত স্বাভাবিক লাগছিল। পরবর্তীকালে, পৃষ্ঠের সঙ্গে ল্যান্ডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে”। চন্দ্রযান-২ কে “ইসরোর করা সমস্ত অভিযানের থেকে সবচেয়ে জটিল” বলে মন্তব্য করেছেন কে শিবান।
পরিকল্পনা মাফিক যদি সব কিছু এগিয়ে যেত, তাহলে সকাল ৫.৩০ থেকে ৬.৩০ এর মধ্যে বেরিয়ে পড়তো কর রোভার। ১৪ দিনের আয়ুষ্কালে, চাঁদের সম্পদের খোঁজ করা, জলের সন্ধান করা এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ছবি সংগ্রহের কাজ কর রোভার।
যে এলাকায় বিক্রমের অবতরণের কথা ছিল, সেখানে এখনও পর্যন্ত কোনও যান নামেনি। যেগুলি চাঁদের গিয়েছে, সেগুলি হয় উত্তরাংশে নাহলে নিরক্ষীয় অঞ্চলে।
উত্তরাংশে চিন একটি অনেক আগে একটি মিশন চালায়, পরে রাশিয়া। আমেরিকার চন্দ্রযানের মধ্যে এমনকী, অ্যাপোলও ছিল চাঁদের নিরক্ষীয় অঞ্চলে। চাঁদের অন্ধকার অংশে চিনের একটি রোভার রয়েছে।
চাঁদে ধীরে ধীরে অবতরণের ক্ষেত্রে চতুর্থ দেশ হিসেবে উঠে আসতে পারত ভারত। তার আগে রয়েছে আমেরিকা, রাশিয়া এবং চিন।
২৩ জুলাই, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে এ উৎক্ষেপণণ করা হয় চন্দ্রযান-২ এর। দ্বিতীবারের চেষ্টায় এক মিনিটের মধ্যে সেটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। তার এক সপ্তাহ আগে অবতরণের ৫৬ মিনিটের মাথায় প্রথমবারের উৎক্ষেপণ বাতিল হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।