জুমবাংলা ডেস্ক : ভিক্ষুক বুলবুলি বেগমের চাল, শাড়ি আর শীতের কম্বল চুরি হয়ে গেছে। এখন আছে শুধু খড়ের বিছানা। অন্যের কাছে কাপড় ধার করে গায়ে জড়িয়েছেন। কেঁদে কেঁদে ভিক্ষে করছেন গাইবান্ধা শহরে। তার আফসোস, চোরে কি আর অন্যকারো বাড়ি চোখে দেখলো না?
গাইবান্ধার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রামনাথের ভিটা নামক গ্রামে বুলবুলি বেগমের বাস। বয়স আশির কোঠায়। কোন মতো হাঁটাচলা করতে পারেন। বসবাসের সামান্য জায়গা ছিলো কিন্তু ঘর ছিলো না। সম্প্রতি ‘জমি আছে ঘর নাই’ সরকারি প্রকল্পের আওতায় বুলবুলি বেগমের ভাগ্যে জোটে এক বাড়ি।
৩০ বছর আগে স্বামী মকবুল হোসেন মারা যাওয়ার পর খেকে বুলবুলি বেগম একাই থাকতেন সেখানে। ভিক্ষে করে পেটের ভাত যোগান আর সরকার নির্মিত বাড়িতে থাকতেন এই বৃদ্ধা। ভিক্ষে করলেও সরকারি দালান ঘরে শুয়ে ভালোই ছিল বুলবুলি বেগমের জীবন। কিন্তু তার সে সুখ বেশি দিন টেকেনি।
গত বন্যায় ব্রহ্মপুত্র নদীর বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল শ্রোত আঘাত হানে গাইবান্ধা বাদিয়াখালী সড়কের রামনাথের ভিটায় রাস্তায়। স্রোতের টানে ভেসে যায় বুলবুলি বেগমের সরকারি বাড়ি। সেই থেকে বুলবুলি আগের মতোই আবারও গৃহহীন।
বুলবুলির ঠাই হয় রাস্তার পাশের তৌহিদুল মিয়ার বাড়ির বারান্দায়। তার সঙ্গী ছিল অন্যের দেয়া দুটো কম্বল, পড়নের দুটি কাপড় আর এক থালা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ভিক্ষে করতে আসেন গাইবান্ধা শহরে। ফিরে গিয়ে দেখেন বুলবুলির চাল, পড়নের কাপর আর কম্বল দুটো চুরি হয়ে গেছে। অনেক কান্নাকাটি করে গ্রামের সবার কাছে বিচার দিয়েছেন। শুনে সবাই আফসোস করলেও তাকে কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
বুলবুলি বেগম বলেন, ‘মুই ভিক্ষা নিব্যার নুম। চাউল দিলে দেও’। এরপর তিনি নিজের গরম কাপড় চুরির বর্ণনা করতে করে কেঁদে ওঠেন।
পরনের কাপড়টি দেখিয়ে বললেন, কাপড় হাওলাত করি নিয়া পরি আচ্চি। বাড়িত যায়া খুলি দেয়া নাগবে। রাতত থাকি পনের মদে। খেতা আর পলে (খড়) কি শীত মেটে বাবা?
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


