চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের বৈশ্বিক পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে এবং এর প্রভাব থেকে কেউ রেহাই পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

বুধবার (১৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়ার ঢেউ কেবল শুরু হয়েছে এবং এটি সম্পদ, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকের ওপর আঘাত হানবে।
আরাঘচি পশ্চিমা দেশগুলোর কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত বন্ধে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করেন। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার এই বার্তার সঙ্গে মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্টের পদত্যাগপত্রের একটি কপিও সংযুক্ত করেছেন। মঙ্গলবার পদত্যাগ করা জো কেন্ট তার চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি ‘বিবেকের তাড়নায়’ ইরানের বিরুদ্ধে এই চলমান যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছেন না।
কেন্ট আরও দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো ‘আসন্ন হুমকি’ ছিল না। একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তার এমন স্বীকারোক্তিকে আরাঘচি তার যুক্তির সপক্ষে একটি বড় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং এই যুদ্ধকে অন্যায্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আব্বাস আরাঘচি তার পোস্টে আরও দাবি করেন, বর্তমানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সরকারি কর্মকর্তার মধ্যেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর জোরালো হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ইরানের ওপর এই আক্রমণ যে কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ বুঝতে শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও অনেক সদস্যের উচিত জো কেন্টের মতো সাহসী পদক্ষেপ অনুসরণ করে এই অন্যায্য যুদ্ধের বিরোধিতা করা। আরাঘচির মতে, যুদ্ধের এই বিস্তার রোধ করা না গেলে এর আর্থ-সামাজিক প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।
বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইরানের এই কূটনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তখন তেহরান বিশ্ব জনমতকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সতর্ক করে দিয়েছেন, এই যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যে সংকটের মুখে পড়বে, তার দায়ভার আক্রমণকারী দেশগুলোকেই নিতে হবে। সামনের দিনগুলোতে এই যুদ্ধ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


