যশোর পৌরসভা এলাকা যেন মশার নগরী। দিন-রাত সার্বক্ষণিক মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নাগরিকরা। নাগরিকরা বলছেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা যশোর এখন কার্যত মশার শহরে পরিণত হয়েছে। ছুটির দিনগুলোয় শহরের পৌরপার্কে একটু প্রশান্তির জন্যে ভিড় করেন পৌর এলাকার মানুষ। কিন্তু মশার কারণে সন্ধ্যার পর কেউ সেখানে টিকতে পারে না। এই পৌরপার্কটি যশোর পৌরসভার ঠিক পেছনেই অবস্থিত।

যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা রকিব হোসেন বলেন, মশার যন্ত্রণায় দিন-রাত একাকার হয়ে গেছে। সন্ধ্যার পর ঝাঁকে ঝাঁকে মশার অত্যাচারে টিকে থাকায় দায়। একটু অন্যমনষ্ক হলেই মশা কামড়ে শরীর ফুলিয়ে দিচ্ছে।
শহরের বাসিন্দা শাওন সুলতানা বলেন, আমাদের এলাকায় এবার যশোর পৌরসভার থেকে কোনো ওষুধ ছেটানো হয়নি। ফগার মেশিনের শব্দও পাওয়া যায়নি। এই এলাকায় তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। মশার উপদ্রব কোনোভাবেই কমছে না।
খড়কি কবরস্থান এলাকার একটি মেসে থাকা কয়েকজন কলেজছাত্র জানান, প্রতিদিন ১৫ টাকার কয়েল পুড়ছে, তবুও পড়তে বসা যায় না। মশা যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুইটি ফগার মেশিন ও ১৮টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানোর কথা। ব্যবহার করা হচ্ছে সেমকো কোম্পানির আকিক নামের ওষুধ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, বরাদ্দের সব ওষুধ স্প্রে করা হয় না। আকিক নামে একটি ওষুধের বোতল ৭১৫ টাকায় কেনা হলেও তা কম দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, সব ওষুধ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হলে মশার উপদ্রব এতটা থাকত না।
যশোর সরকারি এমএম কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, মশা নিধনে ওষুধের সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ না হলে মশা অপ্রতিরোধী হয়ে ওঠে। স্প্রের আগে ও পরে মশার ঘণত্ব পরিমাপ করা জরুরি, যা এখানে করা হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, শুধু ফগিং নয়, লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
যশোর বড়বাজারের নিশি বাবুর দোকানের পরিচালক সঞ্জয় মুখার্জীসহ একাধিক মুদি দোকানি জানান, শীতকালেও এবার কয়েল বিক্রি কমেনি। এখন দিনে-রাতে বিক্রি বেড়েছে। এরোসল, ইলেকট্রিক ব্যাট, লিকুইড ভেপারাইজারের চাহিদাও বেড়েছে। কিন্তু নাগরিকদের মতে, এগুলো সাময়িক উপশম দিলেও স্থায়ী সমাধান নয়।
পৌরসভার মশক নিধন বিভাগের কঞ্জারভেন্সি ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান নয়ন জানান, গত ১২ দিনে ৯টি ওয়ার্ডে দুটি ফগার ও ১৮টি স্প্রে মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর ৫৯০ লিটার ওষুধ ব্যবহার হলেও এবার তা বাড়িয়ে ৬শ লিটার করা হয়েছে এবং এবারও সেমকো কোম্পানির আকিক ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন, গত ৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি শুক্র-শনি ব্যতীত ১২ দিন মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আপাতত নতুন করে স্প্রে করার পরিকল্পনা নেই। প্রজনন মৌসুম হওয়ায় উপদ্রব বেশি। অভিযোগের ভিত্তিতে পৌরসভা নিয়মিত স্প্রে ও ড্রেন পরিষ্কারের কার্যক্রম চালু আছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ গত কয়েক বছরে বেড়েছে। যশোরেও অতীতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এবার মৌসুমী জ্বর বাড়ায় মানুষ আতঙ্কিত; এটি সাধারণ জ্বর, নাকি ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না গয়েশ্বর চন্দ্র রায়
যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাসমুস সাদিক রাসেল বলেন, মশার কামড় শুধু অস্বস্তি নয়, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


