ছবি-সংগৃহীত।
Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : জব্দকৃত ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ মোস্তফাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওসমান গণির আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মোস্তফা। এরপর শুনানি শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এএসআই মোহাম্মদ মোস্তফা নোয়াখালী জেলার চরজব্বার থানার চরহাসান সিকদার বাড়ির সাইদুর রহমানের পুত্র।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ১১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত থেকে দুই সপ্তাহ আগাম জামিন পেয়েছিলেন মোস্তফা। উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী আজ (মঙ্গলবার) সকালে মোস্তফা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। দুপুরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ের হক লাইব্রেরি সামনে থেকে ২ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন রাঙ্গুনিয়া থানার কনস্টেবল মোশাররফ হোসেন। ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ স্বীকার করেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোস্তফা ও তিনি ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তারা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদে দুজনের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো।

এ ঘটনায় পরদিন চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব।

মামলা তদন্ত করে কনস্টেবল মোশাররফ ও এএসআই মোস্তফাকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের পরিদর্শক মঈনুর রহমান। কয়েক মাস পলাতক থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে কর্মস্থল নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনে হাজির হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তিনি দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন। আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত মোস্তফাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি রাঙ্গুনিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রামের কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন তিনি। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় এএসআই মোস্তফা ফোন দিয়ে তাকে দামপাড়া সিআইডি অফিসের গেটের সামনে আসতে বলেন। বিকেল চারটায় সেখানে গেলে মোস্তফাসহ গেটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসেন। কিছুক্ষণ পর বেলাল নামে একজন লোক এসে মোস্তফার সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে মোস্তফা বেলালের হাতে একটি লাল রঙের ব্যাগ দিয়ে মোশাররফকে বলেন, ‘তুমি ওর (বেলালের) সাথে যাও। কিছু টাকা দেবে তা নিয়ে এসো।’ কিন্তু মোস্তফার কথা মতো বেলালের সঙ্গে লালখান বাজার হাইলেভেল রোডে গেলে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন মোশাররফ।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, এএসআই মোস্তফা তাকে ইয়াবাগুলো বিক্রির জন্য দেন। মোশাররফ ও মোস্তফা নগর পুলিশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় চাকরি করেছেন। দুজনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইয়াবাসহ ধরা পড়ার আগে দুজনের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়।

জেনেশুনেই ইয়াবা বিক্রির জন্য তারা নিজেদের কাছে রাখেন বলে জানান মোশাররফ।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.