মধ্যপ্রাচ্যের নীল জলরাশিতে এখন বারুদের গন্ধ। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো অতিকায় সব যুদ্ধজাহাজ, অন্যদিকে ইরানের পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা পরমাণু গবেষণাগার- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এক অগ্নিগর্ভ মোড় নিয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ওমান উপকূলের কাছেই দেখা মিলেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এখন সরাসরি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত শনি ও রোববার ওমান উপকূলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এটি শুধু একা নয়; অন্তত আটটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার এর চারপাশ ঘিরে রেখেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইতিমধ্যেই তারা মধ্যপ্রাচ্যে ৩০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যা আধুনিক ইতিহাসে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহত্তম শক্তি প্রদর্শন।
শুধু আব্রাহাম লিংকনই নয়, গত ৫ মার্চ সুয়েজ খাল পাড়ি দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপার-ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘ম্যাসিভ আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহরের মূল লক্ষ্যই হলো তেহরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ওমানের অদূরে সাগরে যুদ্ধজাহাজ ঘোরাফেরার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত পরমাণু কেন্দ্র, মাউন্ট কোলাং গাজ লা। পাহাড়ের কয়েকশ মিটার নিচে অবস্থিত এই সুড়ঙ্গ পথগুলোতে ইরান প্রায় আধা টন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন ট্রাম্প।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, পাহাড়ের প্রবেশপথগুলো কনক্রিট দিয়ে আরও মজবুত করা হচ্ছে যাতে কোনো বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র একে ভেদ করতে না পারে। ট্রাম্পের আশঙ্কা, কোণঠাসা হয়ে পড়া ইরান মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওমান উপকূলের এই উত্তেজনার মাঝে সরাসরি হুংকার দিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হয় তারা দ্রুত চুক্তিতে আসবে, নতুবা খুব ভয়ংকর কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তৃতীয় আরেকটি যুদ্ধজাহাজও পাঠাতে পারেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন ও মিত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই সমুদ্র ও আকাশে ইরানের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে। এখন পর্যন্ত ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।
ওমানে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন যাতে ইরানের এই সক্ষমতা চিরতরে মুছে ফেলা হয়।
কেন ইরানের ‘খার্গ দ্বীপ’ এখন ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্যবস্তু?কেন ইরানের ‘খার্গ দ্বীপ’ এখন ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্যবস্তু?
উপসাগরীয় যুদ্ধের এই উত্তপ্ত আবহাওয়ায় এখন সবার নজর কোলাং গাজ লা পাহাড়ের দিকে। ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত ‘জেরাল্ড ফোর্ড’ থেকে হামলা চালানোর নির্দেশ দেবেন? নাকি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী মার্কিন নৌবহরের বিরুদ্ধে কোনো বড় ধরণের পাল্টা আঘাত হানবে? আগামী কয়েক সপ্তাহ পুরো বিশ্বের জন্য অত্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর হতে চলেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও দ্য সান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


