
তিনি আরও জানান, সাপুড়ে তার বাড়ির লেবু গাছের পাশের ইটের স্তূপের নিচ থেকে ৫-৬ হাত লম্বা একটি মা সাপসহ ৪৭টি গোখরা সাপ উদ্ধার করেন। সাপগুলো সাপুড়ে মোস্তফা তার জিম্মায় নিয়ে যান। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে ৪৮টি গোখরা সাপ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা সাপ দেখতে সাদেকের বাড়িতে ভিড় করে।
ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান জানান, দুই দিন আগে বাড়ির পোষা বিড়াল লেবু গাছের নিচে মরে পরে থাকতে দেখে গৃহকর্তীর সন্দেহ হয়। পরের দিন কাজের মেয়ে উঠান ঝাড়ু দিতে গেলে সাপের ৩টি বাচ্চা তাকে তাড়া করে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে তিনি রূপগঞ্জের তারাব এলাকা থেকে মোস্তফা নামে এক সাপুড়েকে ডেকে আনেন। সাপুড়ে বাড়ির লেবু গাছের পাশে থাকা ইটের স্তুপের নিচ থেকে ৫/৬ হাত লম্বা একটি মা সাপ (খইয়া পানস), ৪৭টি বাচ্চা ও বেশ কয়েকটি ডিম উদ্ধার করা হয়। পরে সাপুড়ে মোস্তফা সাপগুলো তার জিম্মায় নিয়ে যান।
তার বাড়ি থেকে সাপ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় সাপের আতঙ্কে ছড়িয়েছে বলেও জানান সাদেকুর রহমান।
প্রসঙ্গত, গ্রামাঞ্চলে এ সাপটি খইয়া গোখরা নামে পরিচিত। এটি দেশের সর্বত্রই দেখা যায়। সাধারণত বসতবাড়ির আশপাশে, ছোট ঝোপঝাড়, ইঁদুরের গর্ত বা পুরাতন ভবন বা ইটের ফাকফোঁকরে সাপটি বাস করে। কিছুটা ধূসর বাদামী বর্ণের এই সাপটি লম্বায় প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গোখরা ব্যাঙ, ইঁদুর, গিরগিটি, ছোট পাখি ইত্যাদি সাপটির প্রধান খাদ্য। দ্রুত চলাফেরা ও সাঁতার কাটায় খুবই দক্ষ এই সাপ।
সাধারণত বর্ষাকালে (মার্চ থেকে জুলাই) একটি মা সাপ ১২ থেকে ৩০টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা হতে প্রায় ৬০ দিন সময় লাগে। এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিন প্রকৃতির, যা দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে ও স্নায়ুতন্ত্রকে অকেজো করে দেয়। তাই গোখরা সাপে কাটা রোগীকে ওঝা নয়, দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



