যশোরে নাজমা হোটেলে পচা খাবার ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর।

যশোর শহরের এমকে রোড এলাকায় একটি পরিচিত খাবারের হোটেল নিয়ে হঠাৎ করেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার সকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে উঠে আসে এমন কিছু চিত্র, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।
অভিযানে ‘নাজমা হোটেল’-এর রান্নাঘরে প্রবেশ করেই কর্মকর্তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। মেঝে, দেয়াল—সবকিছুতেই ছিল অপরিচ্ছন্নতার ছাপ। খাবার প্রস্তুতের জায়গাটিও ছিল যথেষ্ট নোংরা, যা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল খাবারের মান। অভিযোগ পাওয়া যায়, আগের দিনের পচা ভাত নতুন ভাতের সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
এতেই শেষ নয়। রুটি ও পরোটার খামিতে অনুমোদনহীন এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়। এসব উপাদান দীর্ঘমেয়াদে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হোটেলের ভেতরে খাবার সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। আবর্জনার স্তূপের পাশেই রাখা হচ্ছিল খাবার, যা খাদ্যদূষণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। এমন পরিবেশে খাবার বিক্রি করা সরাসরি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান জানান, এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হোটেলটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এমন অভিযান নিয়মিত হলে বাজারে খাবারের মান কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়বে।
আরও পড়ুনঃ
এই ঘটনার পর আপাতত নাজমা হোটেলের কার্যক্রম নিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তাদের নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


