আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনাসহ শত-শত মার্কিনির মৃত্যুর জন্য কাসেম সোলাইমানিকে দায়ী করে আসছিলো। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্ররোচনায় চলে আসা নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনেও হাত ছিলো দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ডের ফরেন উইং কুদস ফোর্সের এই কমান্ডারের।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মিত্র বলয়ের স্বার্থের বিরুদ্ধে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে প্রক্সি যুদ্ধের প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে বারবারই উঠে এসেছে সোলাইমানির নাম।এমনকি যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েক বছর ধরেই সোলেমানিকে হত্যার চিন্তা করেছে। কারণ, ওয়াশিংটন বলছে অন্তত ৬শ মার্কিন সৈন্যর প্রাণহানির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ক্রমাগত হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো।
তবে, আয়তুল্লা আলী খোমেইনির পর ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে হত্যা করলে দেশটির মার্কিনবিরোধী তৎপরতা আরও বাড়তে পারে থেকে এই চিন্তা থেকেই অতীতে সোলাইমানিক ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও ওয়াশিংটন তাকে আঘাত করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। সুযোগও মিলেছিলো ২০০৭ সালে। তখন ইরাকের উত্তরাঞ্চলে বহর নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন সোলাইমানি। কিন্তু, তাকে হত্যা করলে বিষয়টি খুবই উসকানিমূলক হতো মনে করে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল গত বছর আন্তর্জাতিক পরারাষ্ট্র বিষয়ক সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’তে লেখেন, তখন আমরা সোলাইমানির গতিবিধির উপর নজর রাখাই শ্রেয় মনে করেছিলাম।
তবে, ড্রোন হামলায় রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডারকে হত্যার পর মার্কিন জয়েন্ট চিফ জেনারেল মার্ক মিলেই বলেন, নজর রাখার চেয়ে তাকে হত্যা করাই ভালো সিদ্ধান্ত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ওব্রেইন জানান, সোলেইমানি বাগদাদে আসার ঠিক আগে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বসে মার্কিন স্বার্থে আঘাতের পরিকল্পনা করছিলেন।
অন্যদিকে, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সন্ত্রাসবাদ ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক জিম ওয়ালশ বলেন, ইরানে সোলাইমানিকে খুবই শ্রদ্ধার চোখে দেখা হতো। দেশটির মানুষ তাকে অত্যন্ত মেধাবী মনে করতো।
১৯৮০ এর দশকে ইরাকের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় উত্থান ঘটে সোলাইমানির। পরে তিনি কুদস ফোর্সের দায়িত্ব নেন। বেশ কয়েকবার তিনি নিহত হয়েছেন বলে খবর রটেছিলো। ২০০৬ ও ২০১২ এর পাশাপাশি ২০১৫তে সিরিয়ার আলেপ্পোতে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি নিহত হয়েছেন বলেও খবর ছড়িয়ে পড়েছিলো।
প্রবল ক্ষমতাধর কাসেম সোলাইমানি ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লা আলী খোমেইনির খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


