মার্কিন আদালত দণ্ডিত ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন মামলার কয়েক মিলিয়ন নথি প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, নথিপত্রগুলো থেকে ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় সঠিকভাবে আড়াল না করায় প্রায় একশ’ ভুক্তভোগীর জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন আইনজীবীরা। দেশটিতে ব্যক্তির গোপনীয়তা অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারায় এবং তাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়েবসাইট থেকে হাজার হাজার নথি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গত শুক্রবার প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নাম কাটাকাটি করা হলেও তা স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে। এছাড়া এমন অনেক নগ্ন ছবি এবং ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করা সম্ভব। ভুক্তভোগীরা এক বিবৃতিতে একে অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এর ফলে তারা নতুন করে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন।
জনপ্রিয় সার্ভাইভার অ্যানি ফারমার বিবিসিকে বলেন, বিচার বিভাগ ভুক্তভোগীদের পরিচয় উন্মুক্ত করে দিয়ে যে ক্ষতি করেছে, তার ভিড়ে নতুন তথ্যগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আরেক ভুক্তভোগী লিসা ফিলিপস জানান, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ায় অনেকে প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন।
তীব্র চাপের মুখে সোমবার এক চিঠিতে বিচার বিভাগ ফেডারেল আদালতকে জানিয়েছে, যেসব নথিতে ত্রুটি পাওয়া গেছে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পরিচয় আড়াল করতে না পারার কারণ হিসেবে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট বা মানুষের ভুলকে দায়ী করা হয়েছে।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রকাশিত কয়েক মিলিয়ন পৃষ্ঠার মধ্যে মাত্র ০.১ শতাংশ পৃষ্ঠায় এমন ত্রুটি পাওয়া গেছে। বর্তমানে একটি বিশেষ দল দিনরাত কাজ করছে যাতে নতুন করে সঠিকভাবে তথ্যগুলো আড়াল করে পুনরায় প্রকাশ করা যায়। মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়া একটি আইনের অধীনে এই নথিগুলো প্রকাশ করা সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাস হওয়া এই আইনে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ করা হলেও ভুক্তভোগীদের পরিচয় কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না।
নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড জানান, অনেক ভুক্তভোগী যারা আগে কখনো জনসমক্ষে আসেননি, এই ভুলের কারণে তাদের নামও এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন পুরো ওয়েবসাইটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
আরও পড়ুনঃ
দিল্লির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে গেলেন ঢাকার তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক
বিচার বিভাগ গত শুক্রবার এপস্টাইন ফাইলসের প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠা, এক লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও প্রকাশ করে। এর আগে নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার উন্মুক্ত করা হয়, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


