সারাদেশের মসজিদগুলোর জনবল কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ২০২৫ সালের এই নীতিমালার মাধ্যমে মসজিদভিত্তিক জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো, ছুটি, কল্যাণ সুবিধা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, সরকারি ও মডেল মসজিদে কর্মরত ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সরাসরি সরকারি তহবিল অথবা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত বেতন স্কেলে বেতন পাবেন। এর আওতায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদসহ সরকার পরিচালিত মসজিদ এবং সারাদেশে নির্মিত ৫৬০টি মডেল মসজিদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে, পাড়া-মহল্লা বা গ্রামের স্থানীয় কমিটি দ্বারা পরিচালিত বেসরকারি মসজিদগুলোর ক্ষেত্রে এই নীতিমালা ‘আদর্শ মানদণ্ড’ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন প্রদানের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মসজিদ কমিটির ওপরই থাকবে। তবে সরকার এই কাঠামো অনুসরণে স্থানীয় কমিটিগুলোকে উৎসাহিত করবে।
নীতিমালায় খতিব ব্যতীত মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবদের বেতন চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে নির্ধারিত হবে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতা নির্ধারণের নির্দেশনাও এতে রাখা হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাসিক সঞ্চয়ের বিধান এবং চাকরি সমাপনান্তে এককালীন সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ছুটির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন কর্মরতরা। এছাড়া, পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদে কোনো পদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না। নিয়োগের সময় বেতন-ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরি সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


