হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামুনুল হক ওই মাদরাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজগাঁও বিভাগের শতাধিক পুলিশ প্রথমে ওই মাদরাসাটা ঘিরে ফেলে গ্রেপ্তার করে। মামুনুলের খবর ভারতের গণমাধ্যমেও গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রকাশ হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসে মামুনুলের গ্রেপ্তার খবর প্রকাশ করেছে ‘হেফাজতে ইসলামের মওলানা মামুনুল হক গ্রেপ্তার, মোদিবিরোধী বিক্ষোভের জের’।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুই দেশের সম্পর্ক ভালো। এমনকি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কও যথেষ্ট দৃঢ়। তারপরও হয়েছিল বিক্ষোভ। আর সে দিনের বিক্ষোভের সাজা এলো এবার। বাংলাদেশ সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তখন পদ্মাপারের বিভিন্ন জায়গায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভ দেখানো হয়েছিল। আর এবার তার মূলচক্রী হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মওলানা মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করল ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ’।
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনে ‘ঢাকায় গ্রেপ্তার মোদি বিরোধী বিক্ষোভের মূল চক্রী হেফাজতে ইসলামের নেতা’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা, চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। ধারাবাহিক এই বিরোধিতার জেরে ১৮ জনের মৃ্ত্যু হয়েছিল। তখন থেকেই পুলিশের স্ক্যানারে ছিল মামুনুল। এর পরপরই ঢাকার অদূরে সোনারগাঁওয়ের একটি অবকাশকেন্দ্রে এক যুবতী-সহ মামুনুল ধরা পড়ে। তখন ওই যুবতীকে নিজের দ্বিতীয় বিবি বলে দাবি করায় পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। পরে সেই যুবতী নিখোঁজ বলে তাঁর ছেলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। রিসোর্টকাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় দুটি মামলা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে’।
‘ঢাকায় মোদি-বিরোধী বিক্ষোভে গেছিল ১৮ জনের, মূল চক্রী মামুনুল ধরা পড়ল আজ’ শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে ভারতের গণমাধ্যম দ্য ওয়াল
এ ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম মামুনুলের গ্রেপ্তারের খবর প্রচার করেছে।
এদিকে, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ধরা পড়ার পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাকে নজরদারির মধ্যে রেখেছিল। এ ঘটনার পর হেফাজতের বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম ও ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের যৌথ অভিযানে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, মোহাম্মদপুর থানার একটি নাশকতা মামলায় মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নামে আরো মামলা আছে। সেগুলোতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানান তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।