প্রায় সব মানুষই চান কাজে মনোযোগী হতে এবং পেশাগত জীবনে সফলতা অর্জন করতে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, সবাই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন না। তাহলে সফল ও উৎপাদনশীল মানুষের সঙ্গে অন্যদের পার্থক্যটা কোথায়? মূলত তাদের দৈনন্দিন অভ্যাসই এই ব্যবধান তৈরি করে। সঠিক অভ্যাস মানুষকে কাজে মনোযোগী রাখে, আর ভুল অভ্যাস ধীরে ধীরে প্রোডাক্টিভিটি কমিয়ে দেয়।

অনেক সময় ছোট ছোট কিছু অভ্যাস অজান্তেই আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলে। স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে অকারণে স্ক্রোল করা, সবকিছু নিখুঁত করার চাপে কাজ শুরুই না করা—এসবই অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
এসব ফাঁদ চিহ্নিত করে বাদ দিতে পারলেই আপনি লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগোতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসগুলো আপনার প্রোডাক্টিভিটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মাল্টিটাস্কিং : একটি ভুল ধারণা
অনেকে মনে করেন একসঙ্গে একাধিক কাজ করলে সময় বাঁচে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। গবেষণায় দেখা গেছে, মাল্টিটাস্কিং করলে সাময়িকভাবে মানুষের আইকিউ প্রায় ১৫ পয়েন্ট কমে যায়। একই সঙ্গে একাধিক কাজ করার ফলে প্রতিবার মনোযোগ ফিরে পেতে গড়ে ২৩ মিনিট সময় লাগে।
এর সহজ সমাধান হলো, এক সময়ে একটি কাজ করা। শুরুতে অভ্যাস করা কঠিন হলেও নিয়মিত চর্চায় মস্তিষ্ক দ্রুত মানিয়ে নেয়। এতে কাজ দ্রুত শেষ হয় এবং মানসিক চাপও কমে।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন
ডিজিটাল যুগে আমরা সারাক্ষণ নোটিফিকেশন আর বার্তার ভিড়ে ডুবে থাকি। অপ্রয়োজনীয় মেসেজ, ই-মেইল বা অ্যাপের বিজ্ঞপ্তি সহজেই মনোযোগ নষ্ট করে দেয়।
এর থেকে বাঁচতে কাজের সময় ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস দূরে রাখুন। শুধু জরুরি কলের জন্য ফোন ব্যবহার করুন। কম্পিউটারে কাজ করার সময়ও অপ্রয়োজনীয় ট্যাব বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয়গুলোতেই মনোযোগ দিন।
সকালের নির্দিষ্ট রুটিন না থাকা
দিনের শুরুটা যেমন হয়, অনেক সময় পুরো দিনটাই তেমন কাটে। এলোমেলো সকাল মানেই অগোছালো দিন। তাই নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠা, হালকা ব্যায়াম করা এবং ধীর ও পরিকল্পিতভাবে দিন শুরু করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। একটি সুস্থ সকালের রুটিন আপনাকে সময়ের নিয়ন্ত্রণ দেয় এবং অপ্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে।
সাপ্তাহিক আত্মপর্যালোচনার অভাব
প্রতিটি সপ্তাহ শেষে নিজের কাজগুলো একবার ফিরে দেখা খুবই জরুরি। সারা দিন ব্যস্ত থাকলেও যদি অগ্রগতি না থাকে, তবে বুঝতে হবে কোথাও সমস্যা রয়েছে। একই রুটিনে ঘুরপাক খেলে উন্নতি সম্ভব নয়। তাই সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজের কাজ, অর্জন ও ঘাটতি বিশ্লেষণ করুন।
এতে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য আরো ভালো পরিকল্পনা করতে পারবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


