
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হত্যার ঘটনায় এক ‘নির্ণায়ক এবং অনুশোচনামূলক’ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাতামি লারিজানি হত্যার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরান যে জবাব দেবে তা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। মূলত গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে। সেনাপ্রধানের এই বার্তার পর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের দামামা আরও জোরালোভাবে বাজতে শুরু করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর এই হুমকির পরপরই বুধবার দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ইতিমধ্যে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করেছে, এই আক্রমণটি মূলত ‘শহীদ ডক্টর আলী লারিজানি এবং তাঁর সঙ্গীদের’ রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর মূল কাঠামো থেকে আলাদা হলেও এই শক্তিশালী বাহিনীটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারের সংকেত দিয়েছে।
আলী লারিজানি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যার মৃত্যু তেহরানের জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরানের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং রাজপথে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলছেন।
সেনাপ্রধান আমির হাতামির বক্তব্য মূলত সেই জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা দ্বিধা করবে না এবং এই পাল্টা আক্রমণ কেবল শুরু মাত্র।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ইসরায়েলের ওপর ইরানের এই সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেল আবিবও বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার দুই পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। ইরানের সেনাবাহিনী ও রেভোল্যুশনারি গার্ডসের এই সমন্বিত অবস্থান এটিই প্রমাণ করে, লারিজানি হত্যার ঘটনাটি ইরান কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং সামনের দিনগুলোতে এই সংঘাত আরও রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


