বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার, সহকারী সুপার পদে নিয়োগও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বদলি নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ হবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে। পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই ক্ষমতা এনটিআরসিএকে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয় এনটিআরসিএর অধীন পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতে। তবে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে হয়ে আসছিল। এসব পদে নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে।
সম্প্রতি বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে কর্মচারী নিয়োগে এত দিন ধরে চলা নিয়মও পরিবর্তন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নিয়মে এ নিয়োগে পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা থাকছে না। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে এসব পদে নিয়োগে পরীক্ষা, মূল্যায়ন ও নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হবে। এ কমিটিতে পরিচালনা পর্ষদের কেউ থাকতে পারবেন না।
এখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার, সহকারী সুপার পদে নিয়োগও হবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে। এ বিষয়ে এনটিআরসিএ পরীক্ষা নেবে। প্রার্থীদের লিখিত বা বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষা হবে। লিখিত বা বাছাই পরীক্ষায় ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদে ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৮ নম্বর থাকবে। লিখিত বা বাছাই পরীক্ষার পাস নম্বর হবে মোট নম্বরের অন্যূন ৪০ শতাংশ।
নীতিমালায় বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বশেষ জারি করা জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসারে, আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
একজন শিক্ষক কর্মজীবনে তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
বদলির নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা বা বিবরণ নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রকাশ করবে। শূন্যপদের বিপরীতে অধিদপ্তর বদলির আবেদন আহ্বান করবে। সমপদে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতিবছর সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলির আবেদন করতে পারবেন। প্রথম যোগদানের পর চাকরির দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষকেরা বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন।
বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একজন শিক্ষক কর্মজীবনে তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


