রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গত দুই শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভারী তুষারপাতের রেকর্ড হয়েছে চলতি জানুয়ারিতে। অস্বাভাবিক এই তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগর জীবন, থেমে থেমে চলছে যান চলাচল, দেরিতে পৌঁছাচ্ছে ট্রেন, আর পুরু বরফের স্তূপ ভেঙে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বিরল এই তুষারপাত মস্কোর আবহাওয়া ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করেছে।

সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ বলছে, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলতি মাসে গত ২০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির আবহাওয়াবিদরা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শেষ দিকে এসে শহরটিতে তুষারপাতের পরিমাণ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের এই শহরে রাস্তাঘাটে জমে থাকা পুরু বরফের স্তূপের মধ্য দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করতে দেখা গেছে বাসিন্দাদের। বার্তাসংস্থা এএফপির তোলা ছবিতে দেখা যায়, ভারী তুষারপাতের কারণে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাতেও হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
চলমান এই পরিস্থিতিতে মস্কো ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতকারী ট্রেনগুলো দেরিতে চলেছে, আর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সড়কগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ যানজট। অনেক গাড়ি বরফের কারণে সড়কে আটকে পড়ে।
মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, ‘জানুয়ারি মাসটি মস্কোর জন্য ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা এবং অস্বাভাবিকভাবে তুষারে পরিপূর্ণ’। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা প্রায় ৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সমপরিমাণ তুষার রেকর্ড করেছে। যা গত ২০৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এমনকি কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার তুষারের স্তূপের উচ্চতা পৌঁছেছে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত। বিজ্ঞানীরা জানান, তুষার মূলত বাতাসে ভরা হওয়ায় মাটিতে জমে থাকা তুষারের পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পরিমাপের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যায়।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মস্কো অঞ্চলের ওপর দিয়ে গভীর ও বিস্তৃত ঘূর্ণিঝড় এবং তীব্র বায়ুমণ্ডলীয় ফ্রন্ট অতিক্রম করায় এই রেকর্ড পরিমাণ তুষারপাত হয়েছে।
৩৫ বছর বয়সী মস্কোবাসী বারটেন্ডার পাভেল এএফপিকে বলেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন আরও বেশি তুষার পড়ত। এখন তো প্রায় তুষারই থাকে না। এই অন্ধকার, বরফঢাকা শীতে এক ধরনের শূন্যতা লাগে।’
এর আগেও চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কামচাটকা অঞ্চলে ভয়াবহ তুষারঝড়ের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত তুষারের স্তূপ জমে গেছে, আর রাস্তার দুই পাশে গাড়িগুলো বরফে ঢেকে মানুষকে খুঁড়ে খুঁড়ে পথ বানাতে হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


