বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তথা বিশ্বের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার কার্যক্রমে জোরালো অগ্রগতি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথিপত্র সরকারের কাছে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), যা তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দেশে ফেরেননি সাকিব। সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে যান। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি কার্যত জাতীয় দলে অনুপস্থিত ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের শেষ দিকে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন ৩৮ বছর বয়সী সাকিব।
সম্প্রতি নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাকিব ও সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা আবার ক্রিকেটে ফিরতে পারেন। এরপরই সাকিবের আইনজীবী দল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে, যা বিসিবি সরকারের কাছে পাঠিয়েছে। বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি ‘ক্রিকবাজ’কে নিশ্চিত করেছেন।
মার্চে আসন্ন পাকিস্তান সিরিজে সাকিবকে দলে পেতে আগ্রহী টিম ম্যানেজমেন্ট। ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও জানিয়েছেন, সাকিবের সঙ্গে আবার খেলতে পারলে তিনি আনন্দিত হবেন, কারণ দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের। এদিকে সাকিব বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললেও জাতীয় দলে প্রায় দেড় বছর অনুপস্থিত। তার আশা, দেশে ফিরে অন্তত একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার সুযোগ পাবেন।
টাইগারদের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, ফিট থাকলে সাকিব ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলতে পারেন। পরিসংখ্যানও সাকিবের গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। তিনি দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশ ২৫টি ওয়ানডে খেলেছে—জিতেছে মাত্র ৭টি, হেরেছে ১৭টি, একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পেতে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাকিবকে চায় বিসিবি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


