21

Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো জানায়, ইসমাইল হোসেন সম্রাট সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতেন ৩টি ক্যাসিনো।

এগুলো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব, ব্রাদার্স ক্লাব ও বনানী এলাকার গোল্ডেন ঢাকা। এছাড়া মতিঝিল এলাকার ফুটবল ক্লাব, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, সোনালী অতীত, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্রাটের হাতে। ক্লাবগুলো মতিঝিল থানার এক কিলোমিটারের মধ্যে। স্থানীয় কতিপয় যুবলীগ নেতার মাধ্যমে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

সম্রাটের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাহেব বাজার এলাকায়। তিনি প্রয়াত ফয়েজ উদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। সম্রাট যুবলীগে খুবই প্রভাবশালী এক নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তী কাউন্সিলে অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। যুবলীগের দিবসভিত্তিক কর্মসূচি এবং রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জনসভাগুলোতে সব সময়ই বড় শোডাউন থাকত সম্রাটের লোকজনের।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বাধীন যুবলীগের এ ইউনিটকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণাও দিয়েছেন।

আলোচিত এ সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো- টাকার বস্তা নিয়ে তিনি জুয়া খেলতে যান সিঙ্গাপুরে। মাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলেন। এটি তার নেশা। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় জুয়ার আস্তানা মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনোতে পশ্চিমা বিভিন্ন দেশ থেকেও আসেন জুয়াড়িরা।

কিন্তু সেখানেও সম্রাট ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত। প্রথম সারির জুয়াড়ি হওয়ায় সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি এয়ারপোর্টে তাকে রিসিভ করার বিশেষ ব্যবস্থাও আছে। এয়ারপোর্ট থেকে মেরিনা বে স্যান্ডস ক্যাসিনো পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিলাসবহুল গাড়ি ‘লিমুজিন’যোগে। সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মোমিনুল হক সাঈদ ওরফে সাঈদ কমিশনার, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়াড়ি খোরশেদ আলম।

একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে ইসমাইল হোসেন সম্রাটের এক চীনা বান্ধবী রয়েছে। তার নাম সিন্ডি লি। সিঙ্গাপুর গেলে তার সঙ্গে বিশেষ সময় কাটান সম্রাট। ২০১৮ সালের শেষদিকে সিঙ্গাপুরে ইসমাইল হোসেন সম্রাটের সিন্ডি লির জন্মদিনে বড় আকারের একটি পার্টির আয়োজন করেন সম্রাট।

জাঁকজমকপূর্ণ ওই পার্টিতে যোগ দিতে সিঙ্গাপুরে যান সম্রাটের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ দক্ষিণের সহসভাপতি আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ, শেখ সোহেল ও সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর এপিএস মিজানুর রহমান।

এদিকে সম্রাট গত কয়েকদিন ধরে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন, যা সর্বত্র আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অস্বীকার করছিলো না যে তিনি কার্যালয়ে নেই। এও জানা যাচ্ছিলো যে, সম্রাট দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।

আবার এখন ‘গুজব’ আকারে জানা যাচ্ছে যে, গত রাতে সম্রাট ‘ছদ্মবেশে’ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গেছেন। সম্রাট কার্যালয়েই আছেন, না বেরিয়ে গেছেন, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি কার্যালয় কেনো বসে থাকবেন, প্রশ্ন-রহস্যের উত্তর মিলছে না।

তাকে যদি গ্রেপ্তার করতে চাওয়া হতোই, কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় ইচ্ছে করলেই তা সম্ভব ছিলো। তার ঠিকাদারি ব্যবসার কার্যালয় বিশেষ কোনো স্থান নয় যে, ভেতরে ঢুকতে বা গ্রেপ্তারে কারও অনুমতির প্রয়োজন ছিলো। তবুও সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছিলো এভাবে যে ‘গ্রেপ্তার এড়াতে’ সম্রাট কার্যালয় থেকে বের হচ্ছেন না।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, তথ্য প্রমাণ পেলে যুবলীগ নেতা সম্রাটকেও ধরা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের ধরা হচ্ছ। ‘যার বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ পাব, তার বিরুদ্ধেই আমরা অ্যাকশনে যাব। কাউকে আমরা ছাড় দিচ্ছি না।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.