
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানে তালেবান আগ্রাসন প্রতিরোধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধের ময়দানে নেমে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছিলেন বালখ প্রদেশের চারকিন্ট জেলার নারী গভর্নর সালিমা মাজারি। কিন্তু এখন তাকে আটক করেছে তালেবান। খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে গভর্নরের দায়িত্ব পান সালিমা মাজারি। এরপর থেকেই অঞ্চলটির ৩০ হাজার মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন তিনি। প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নিজ জেলাকে তালেবান মুক্ত রাখবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর টিকে থাকতে পারলেন না। তালেবানদের কাছে চারকিন্ট জেলার পতন ঘটেছে। আফগান সরকারে মাত্র তিনজন নারী গভর্নর ছিলেন। তাদেরই একজন সালিমা।
যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার ব্যাপারে ৪০ বছর বয়সী এই নারী বলতেন, তাকে কখনো অফিসে বসতে হয় আবার কখনো অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে যেতে হয়।
মাত্র দশ দিনে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছে তালেবান। দেশটির প্রেসিডেন্টসহ অনেক নেতাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তবুও পিছপা হননি সালিমা মাজারি। চোয়াল শক্ত করে তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন। একের পর এক প্রদেশ বিনা বাধায় তালেবানরা দখল করলেও চারকিন্ট ও বালখ প্রদেশ রক্ষায় গোষ্ঠীটির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান তিনি। উভয় পক্ষের তুমুল সংঘর্ষে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠতে পারেনি সালিমার নেতৃত্বাধীন বাহিনী।
গভর্নরের দায়িত্ব পাওয়ার পর সালিমা তার জেলার সুরক্ষার জন্য একটি নিরাপত্তা কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনসাধারণের মতামত নিয়ে চারকিন্টের পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চালান। এতে করে তার ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের আস্থা বাড়ে।
তখন সালিমা বলতেন, তালেবান প্রতিরোধে চারকিন্টের উপকণ্ঠে সৈন্য মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আমরা তাদের আক্রমণের মুখোমুখি হয়েছি। তালেবানকে জেলার বাহিরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এই নারী নেতা। ফলে অনেক আফগান নারীর কাছে তিনি আদর্শ হয়ে ওঠেন। বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হলে তালেবান পুনরায় সহিংস হয়ে ওঠে। তখন থেকেই দেশের মানুষ ও নারীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


