বছরের শুরু থেকেই সোনার বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা এখন আর শুধু ব্যবসায়ীদের আলোচনার বিষয় নয়—সাধারণ ক্রেতার চিন্তাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কখনো টানা কয়েক দিনে রেকর্ড দাম, আবার তার পরপরই বড় ধরনের পতন—এই দোলাচলে বাজার যেন স্থির থাকতে পারছে না এক মুহূর্তের জন্যও। বিশ্ববাজারের গতিবিধির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে দেশের বাজারেও দাম পরিবর্তনের গতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

ইদানীং এমনও দেখা যাচ্ছে, নতুন দাম ঘোষণার পর ১২ ঘণ্টা পেরোনোর আগেই আবার সংশোধন আসছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কখনো রাতে দাম ঠিক করছে, আবার দিনের প্রথম ভাগেই সেই দামে কাটছাঁট বা বাড়তি সংযোজন করছে। এতে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা—দু’পক্ষের জন্যই অস্বস্তিকর।
সবশেষ রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। সেদিন সকাল ১১টার দিকে ভরি প্রতি সোনার দাম এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানো হয়। কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার দিকে আবার ভরি প্রতি ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমানোর ঘোষণা আসে। দিনের মধ্যেই এমন দুই দফা পরিবর্তনে অনেকেই নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হন।
সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই সোনা বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান দর অনুযায়ী, ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯ টাকায়।
বাজুস তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার বা পিওর গোল্ডের দামের ওঠানামা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববাজারে সোনার দামের ঘন ঘন উত্থান-পতনের প্রভাবই সবচেয়ে বেশি পড়ছে দেশের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য নড়াচড়া হলেই তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে স্থানীয় দরে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। যদিও গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির অঙ্কে পার্থক্য হতে পারে, যা ক্রেতাকে দোকানভেদে আলাদা হিসাবের মুখে ফেলছে।
চলতি বছর এ নিয়ে দেশের বাজারে ২০তম বারের মতো সোনার দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ১৪ দফা দাম বেড়েছে এবং ৬ দফা কমেছে। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—যেখানে বাড়ানোর সংখ্যা ছিল ৬৪ বার এবং কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
আরও পড়ুনঃ
সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনার বাজার এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে স্থিরতার চেয়ে পরিবর্তনই যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রেতারা যেমন সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিনের নতুন দামের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


