
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের বহুল আলোচিত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দীর্ঘদিনের সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে যথেষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্রাউন প্রিন্সকে অভিযুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। এখন শোনা যাচ্ছে আরেক খবর। তা হলো ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার আগে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে একটি মামলা থেকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে পারেন। অভিযোগ আছে কানাডা প্রবাসী সৌদি আরবের সাবেক সন্ত্রাস বিরোধী প্রধান সাদ আল জাবরিকে হত্যা করতে এবং সৌদি আরবে অবস্থানরত তার পরিবারের সদস্যকে অপহরণ করতে ক্রাউন প্রিন্স ৫০ সদস্যের ‘টাইগার স্কোয়াড’ টিম পাঠিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে এ ঘটনার সময় সাদ আল জাবরি ছিলেন কানাডার টরোন্টোতে। এ অভিযোগে জাবরির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা করা হয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে। অনলাইন ডেইলি মেইল সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছে, ওই মামলা থেকে ক্রাউন প্রিন্সকে সাধারণ ক্ষমা দেয়ার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন আইনজীবী এ মাসের শুরুতে মামলার জবাবে ওয়াশিংটনের ফেডারেল কোর্টে বলেছেন, ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ শুধু যে মিথ্যা তা-ই নয়। একই সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের সার্বভৌম মর্যাদা সুরক্ষিত। অর্থাৎ তিনি বিচার থেকে দায়মুক্ত। ডেইলি মেইল লিখেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের দাবির কাছে মাথা নত করে, তাহলে তাতে ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে অন্য যেসব মামলা আছে সেগুলোও হালকা হয়ে যাবে অথবা সেগুলো থেকেও তিনি দায়মুক্তি পেয়ে যেতে পারেন। এমন মামলার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১৮ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ। অনেক তদন্তে এ হত্যার নির্দেশ দেয়ার জন্য সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু ক্রাউন প্রিন্স এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
কানাডা প্রবাসী সৌদি আরবের সাবেক সন্ত্রাসী বিরোধী প্রধান এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সৌদি আরবের গোপন সম্পর্কের অনেক তথ্যই জানেন আল জাবরি। তিনি বলেছেন, তিনি যেসব তথ্য জানেন তা স্পর্শকাতর, অবমাননাকর এবং সৌদি সরকারের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সাংবাদিক জামাল খাসোগি এবং অন্যদের বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অনেক তথ্য জানেন। তাই জাবরি তার মামলায় দাবি করেছেন এ জন্য তাকে হত্যা করতে চান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। জবাবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আল জাবরির আইনজীবীদের কাছে প্রশ্ন পাঠিয়ে তার উত্তর দাবি করেছে। তাতে জানতে চাওয়া হয়েছে, সৌদি আরবের দায়মুক্তির চেয়ে আবেদনে তাদের আইনগত মতামত। আল জাবরির পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে এমন একটি সূত্র এ কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টকে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আল জাবরি এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আইনজীবীরা।
ওদিকে সৌদি আরবে আটক করা হয়েছে আল জাবরির এক ভাই এবং তার দুই সন্তানকে। গত মার্চ থেকে কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে তাদেরকে আটক করে রাখা হয়েছে। এর নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বছর আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ক্রাউন প্রিন্সের বিরুদ্ধে মামলা করেন আল জাবরি। তখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে একজন মূল্যবান অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেছিল। তারা আরো বলেছিল, ড. আল জাবরি যুক্তরাষ্ট্রের সেবায় যাতে সম্মানজনক অবস্থানে থাকেন, সে জন্য সমস্যার সমাধানে তারা কাজ করবে। সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়ান কালদাহল লিখেছেন, ড. আল জাবরির পরিবারের যেকোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বিচার অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু তিনি এমনটা বললে কি হবে। ক্রাউন প্রিন্সের ঘনিষ্ঠ সমর্থক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সৌদি আরব সফরে যান এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির বিরুদ্ধে কংগ্রেস যে অবরোধ দেয়ার চেষ্টা করছিল, তিনি তা আটকে দেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় ক্রাউন প্রিন্সকে অভিযুক্ত করার প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও তার দিকে আঙ্গুল তুলতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
অন্যদিকে এ বছর সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার বার্ষিকীতে অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেন বলেছেন, নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সুবিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তিতে মার্কিন মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরব যে যুদ্ধ করছে এর সমর্থন তিনি করবেন না।
আল জাবরির ছেলে খালিদ টরোন্টোতে পেশায় একজন ডাক্তার। তিনি ওয়াশিংটন পোস্টে একটি পোস্ট লিখেছেন। তাতে তিনি দাবি করেছেন, যদি সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্সকে দায়মুক্তি দেয়া হয় তাহলে এতে আরো হত্যাকান্ডকে উৎসাহিত করবে। তারা সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে যেভাবে হত্যা করেছে, আমার পিতাকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে তা থামবে না। জবাবদিহিতার ঘাটতি এক জিনিস। কিন্তু দায়মুক্তি দেয়ার অর্থ হলো হত্যাকান্ডে লাইসেন্স দেয়ার মতো। উল্লেখ্য, প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফের একজন শীর্ষ সহযোগী ছিলেন আল জাবরি। প্রিন্স নায়েফকে ২০১৭ সালে সরিয়ে দিয়ে নিজে ক্রাউন প্রিন্স হন মোহাম্মদ বিন সালমান। বাদশা সালমানের ভাই প্রিন্স আহমেদ এবং প্রিন্স নায়েফকে কর্তৃপক্ষ মার্চে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। আল জাবরি তার ৬ সন্তান সহ বর্তমানে কানাডা বসবাস করছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


