উত্তর ভিয়েতনামের পাহাড়ি অঞ্চলে আবহাওয়ার আচরণ প্রায়ই চমকে দেয়। ২২শে এপ্রিল বিকেলে সেই চমকই আবার দেখা গেল ফানসিপান পর্বত–এর চূড়ায়, যেখানে হঠাৎ করেই নেমে আসে শিলাবৃষ্টি। ঘটনাটি ঘটে বিকেল ৫টার দিকে, যখন পর্যটক আর ফটোগ্রাফাররা স্বাভাবিকভাবে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলাগুলোর আকার ছিল প্রায় ১ থেকে ৩ সেন্টিমিটার। শুরুতে ছোট ছোট বরফকণার মতো পড়তে থাকলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘন হয়ে জমে মাটির ওপর সাদা আস্তরণ তৈরি করে। তবে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি—ধীরে ধীরে গলে যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা ফটোগ্রাফার ফাম হোয়াং কুয়ং জানান, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে শিলাবৃষ্টি চলেছিল। এরপর তা হঠাৎই থেমে যায়, কিন্তু আকাশ মেঘাচ্ছন্নই রয়ে যায়। তার কথায়, তিনি আগে এই চূড়ায় তুষার দেখেছেন, কিন্তু এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনও দেখেননি।
একই সময়ে, আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. নগুয়েন নগোক হুই। তিনি জানান, বিকেলের দিকে মেঘের উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, যা বজ্রঝড় এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। ঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এই ঘটনাকে ঘিরে সতর্কবার্তাও জারি করেছে জাতীয় আবহাওয়া ও জলবিজ্ঞান পূর্বাভাস কেন্দ্র। তাদের মতে, দক্ষিণ চীন থেকে আসা একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ ভিয়েতনামের দিকে এগোচ্ছিল, যা ওই রাতেই উত্তরাঞ্চলে প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
এই শীতল বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষে তৈরি হয় শক্তিশালী পরিচলন প্রবাহ। এর ফলে শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, এমনকি স্থানীয়ভাবে টর্নেডোর ঝুঁকিও তৈরি হয়। আবহাওয়া সংস্থা জানায়, এই পরিস্থিতি ২৪শে এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
পরদিন সকালে লাও কাই প্রদেশের প্রশাসন জানায়, বিকেল ৫টা থেকে ৫টা ২০ মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। অনেক জায়গায় বজ্রঝড়ের সঙ্গে প্রবল দমকা হাওয়া ও স্থানীয়ভাবে শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।
এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষিজমি, সড়ক এবং কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ে। প্রশাসন দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিতে মাঠে নেমেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে। পাশাপাশি, ঘরবাড়ি মেরামত ও কৃষিকাজ পুনরুদ্ধারে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ সোনার দাম: ভরিতে কমল ৩,২৬৬ টাকা, নতুন দর কার্যকর
পুরো ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, পাহাড়ি অঞ্চলে আবহাওয়া কতটা দ্রুত বদলে যেতে পারে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, সংশ্লিষ্টরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


