
জুমবাংলা ডেস্ক : দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মঙ্গলবার মধ্যরাতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে বুধবার হালদায় ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত একটার দিকে হালদার আজিমের ঘাটা, নাপিতের ঘোনা, স্লুইসগেট, মাছুয়া ঘোনা, নোয়াহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় মা-মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে বলে জানিয়েছেন ডিম সংগ্রহ কারি কামাল সওদাগর, আশু বড়ুয়া ও আবদুল কাদের।
জানা গেছে, বছরের এপ্রিল থেকে জুনের যেকোনো সময় হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে- পূর্ণিমা বা অমাবস্যার তিথি বা জো থাকতে হবে। একই সময়ে নদীর স্থানীয় এবং খাগড়াছড়ি, মানিকছড়িসহ নদীর উজানে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে হবে। ফলে পাহাড়ি ঢল নামবে এবং নদীতে ফেনাসহ পানি প্রবাহিত হবে। ঠিক এ সময়ে পূর্ণ জোয়ার শেষে অথবা পূর্ণ ভাটা শেষে পানি যখন স্থির হয় তখনই কেবল মা মাছ ডিম ছাড়ে।
গত কয়েকদিন ধরে ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা নিয়ে হালদায় মা-মাছের ডিম ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে এবার মা-মাছের নমুনা ডিম ছাড়ায় আশায় বুক বেঁধেছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। তারা জানান, নমুনা ডিম ছাড়ার পর যে কোন সময় ডিম ছাড়বে মা-মাছ।
হালদায় ডিম ধরার দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞ জেলে আশু বড়ুয়া বলেন, আমরা অল্প করে নমুনা ডিম সংগ্রহ করলাম। আমাদের বাপ-দাদার অভিজ্ঞতায় বলে- নমুনা ডিম জোয়ারে ছাড়লে পরের ভাটায় পুরোপুরি ডিম ছাড়ে। আবার নমুনা ডিম ভাটায় ছাড়লে পরের জোয়ারে মা মাছ ডিম ছাড়ে। তবে পরিবেশ অনুকূলে না হলে পরের জোয়ারে বা ভাটায় ডিম না ছেড়ে মা মাছে আরেকটি জো’র অপেক্ষা করে।
হালদা গবেষকরা জানিয়েছেন, এ বছরের এপ্রিল মাস শুরু হওয়ার পরে এরই মধ্যে তিনটি জো চলে গেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টি না হওয়ায় নদীতে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাই মা মাছ ডিম ছাড়েনি। গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পূর্ণিমার জো। এটি ২৮ মে পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হালদা গবেষক এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদায় বেশ কিছু স্থানে মা মাছ নমুনা ডিম ছাড়ছে। মা মাছ যদি পরিবেশ অনুকূল অর্থাৎ ডিম ফুটাতে পারবে মনে করে তাহলে সকালের ভাটায় ডিম ছাড়বে।
ঘূর্ণিঝড়ের সময় হালদায় ডিম না ছাড়ার কথা গবেষণায় উল্লেখ থাকলেও কেন ছেড়েছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার মানে হলো- নদীতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়েনি।
হাটহাজারীর ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, পূর্ণিমার চলতি জোতেই নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ। গত কয়েক দিন ধরে সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন ডিম সংগ্রহকারীরা। গতকাল রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নমুনা ডিম ছেড়েছে। আজিমের ঘাটের কামাল সওদাগর, আশু বড়ুয়া ও আব্দুল কাদের নামের তিন ডিম সংগ্রহকারী আমাকে মোবাইল ফোনে ছবি পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এখন হালদাপাড়ে উৎসবের আমেজ। এটি বিকেলেও থাকবে।
তিনি জানান, হালদা নদীর হাটহাজারী ও রাউজান অংশের আজিমের ঘাট, অংকুরই ঘোনা, কাগতিয়ার মুখ, গড়দুয়ারা নয়াহাট, রাম দাশ মুন্সির ঘাট, মাছুয়া ঘোনা ও সত্তার ঘাট অংশে কয়েক শত নৌকার মাধ্যমে ডিম আহরণ চলছে। আমরা অপেক্ষায় আছি কখন পূর্ণমাত্রায় ডিম ছাড়বে। আশা করছি এবার আল্লাহর রহমতে ডিম সংগ্রহকারীদের মুখে হাসি ফুটবে।
খাগড়াছড়ির জেলার বাটনাতলী পাহাড় হতে নেমে সর্পিল ১০৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হালদা নদী মিলেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে। দেশের একমাত্র জোয়ার-ভাটার রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র এই নদীর সুরক্ষায় সরকার ইতোমধ্যে এটিকে বঙ্গবন্ধু হেরিটেজ ঘোষণা করেছে। বাড়ানো হয়েছে মনিটরিং কার্যক্রম। বসানো হয়েছে হালদার আট পয়েন্টে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


