জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫৯ জন ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এদের এমপি বানিয়ে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব না। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে।
গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে নাহিদ ইসলামকে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে, এই নাহিদ ইসলামরা আগামীতে বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট, ক্যাপ্টেন হিসেবে বসে যাবেন। আর আমরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হিসেবে বসব।
আমি বিশ্বাস করি, নাহিদ ইসলামরা বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাবেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘৫৯ জন ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন? এদের এমপি বানিয়ে দুর্নীতি দমন হবে, এটা শুনলে হাসি পায়। আমরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরব। সেই টুঁটি চেপে ধরা নিজেদের ঘর থেকে শুরু হবে।
তিনি বলেন, ‘জনগণ নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, মামলাবাজ ও দখলদারদের প্রত্যাখ্যান করবে। আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি, আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না।’
বাংলাদেশের ভবিষ্যতের দায়িত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই—উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা শুধু ঢাকা-১১ ১১ আসনের জন্য নয়, বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি এবং ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকের হকের ওপর পাহারাদারি করব।’ তিনি বলেন, ‘জাতির ভাগ্য বদলের জন্য পাঁচটি বছরই যথেষ্ট। এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। মামলাবাজদের লাল কার্ড দেখাবে। দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে। জনগণ আধিপত্যবাদের দাসত্বকেও প্রত্যাখ্যান করবে।’
বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা গত দেড় দশক দেশের মাটিতে ছিলেন না, পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন, ফিরে এসে তাঁরাই এখন মামলা বাণিজ্য করছেন। ৬ আগস্ট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এমনকি ফুটপাতে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কি সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাই মাসে এ জন্য লড়াই করেছিলাম? পুরনো চাঁদাবাজের বদলে নতুন চাঁদাবাজ তৈরি হবে, এ জন্য তো আন্দোলন হয়নি। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল—উই ওয়ান্ট জাস্টিস। সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই ছিল তরুণদের আকাঙ্ক্ষা।’
ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই আসনের অন্যতম প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক। এই এলাকার উন্নয়ন না হওয়ার পেছনের মূল কারণও রাজনৈতিক। আর সেই রাজনৈতিক কারণ হচ্ছে ভূমিদস্যুতা। আগস্টের আগে যারা প্রধান দুই দল হিসেবে পরিচিত ছিল, তাদের এখানকার স্থানীয় নেতারাই ৩০ বছর ধরে ভাগ-বাটোয়ারা করে ভূমি দখল করেছে। আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। এ সময় অনেকে শুধু বাংলাদেশের মানুষকে ঈদের কথা শোনাত। বলত, ঈদ আসবে, ঈদ আসবে, ঈদ আসবে। কিন্তু প্রায় ১৭ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে ঈদের চাঁদ উঠল না।’
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগ করেন। মিরপুরের ব্যাটালিয়ন বাজারের পাশে বাইতুছ সালাত জামে মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর সেখান থেকে বিভিন্ন স্থান ঘুরে গণসংযোগ করেন তিনি।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


